বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) বুধবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় একটি পথসভা আয়োজন করেছিল। “শোষণ-বৈষম্যবিরোধী গণতন্ত্র জাগরণ যাত্রা” শীর্ষক এই সভায় একদল যুবক সমন্বয়ক পরিচয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ওই যুবকেরা সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্সের হাত থেকে মাইক ছিনিয়ে নেওয়া, ব্যানার কেড়ে নেওয়া এবং চেয়ার ভাঙচুরের অভিযোগে অভিযুক্ত হন।
সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, সভা চলাকালে একদল যুবক নিজেদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক দাবি করে বলেন, তারা আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিলেন। পরে তারা উচ্চস্বরে চিৎকার শুরু করে এবং মাইক ও ব্যানার ছিনিয়ে নেয়। রুহিন হোসেন জানান, সিপিবি নেতা ও কর্মীরা অনেক বুঝানোর চেষ্টা করলেও হামলাকারীরা তাদের কথায় কর্ণপাত করেনি। এ সময় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও কোনো হস্তক্ষেপ করেনি, বরং তাদের ভূমিকা রহস্যজনক ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি করা ব্যক্তিরা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। আন্দোলনের স্থানীয় নেতা হয়রত আলী বলেন, “আমরা স্থানীয়ভাবে তেঁতুলিয়ায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করেছি, কিন্তু সিপিবির পথসভায় কোনো বাধা দেইনি।” তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের দোসররা সিপিবিকে সমর্থন দেয়ায় স্থানীয় জনগণ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি নিজে হস্তক্ষেপ করেছেন।
তেঁতুলিয়া থানার ওসি এনায়েত কবির জানান, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং দেখেছেন যে কিছু ব্যক্তি সিপিবি নেতাদের উদ্দেশ করে আগের সময়ের কথা উল্লেখ করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। কিন্তু কাউকে পরিচয় না দিয়েই স্থান ত্যাগ করে। ওসি আরও বলেন, এ বিষয়ে সিপিবির পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর সিপিবির সাধারণ সম্পাদক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন, যেখানে তিনি বলেন, “পথসভা শেষ করতে পারলাম না, ওরা বাধা দিল। প্রশাসনের ভূমিকা নেই। ধৈর্যেরও সীমা আছে।” পোস্টটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয় এবং নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।


