ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রকাশিত ৪২টি ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানির তালিকায় জ্বালানি খাতের কোম্পানি ডরিন পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেডের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে থাকা এবং নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদানকারী কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হলেও কেন এটি ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় স্থান পেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ডিএসই জানিয়েছে, আর্থিকভাবে দুর্বল বা ব্যবসা পরিচালনায় অনিশ্চয়তার ঝুঁকিতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিরীক্ষকদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোম্পানিগুলোকে ‘গোয়িং কনসার্ন থ্রেট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ডিএসইর জনসংযোগ কর্মকর্তা শফিকুর রহমান বলেন, ডরিন পাওয়ারকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কোম্পানির অডিটর রিপোর্টের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে। এ ক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জ নিজস্বভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি, বরং নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য অনুসরণ করেছে।
কোম্পানির আর্থিক তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২২ সালে ডরিন পাওয়ারের আয় ছিল ১ হাজার ৫০২ কোটি টাকা, যা ২০২৩ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকায়। ২০২৪ সালে আয় কমে ১ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা হলেও ২০২৫ সালে তা আবার বেড়ে ১ হাজার ৫০৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ২০২৩ সালে ছিল ৩ টাকা ৫৬ পয়সা, ২০২৪ সালে ১ টাকা ৮১ পয়সা এবং ২০২৫ সালে ৩ টাকা ১৯ পয়সা। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ১৯ পয়সা। এছাড়া কোম্পানিটির রিজার্ভ রয়েছে প্রায় ৭৬০ কোটি টাকা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ৫২ টাকা।
লভ্যাংশ প্রদানের ক্ষেত্রেও ধারাবাহিকতা রয়েছে ডরিন পাওয়ারের। গত পাঁচ বছরে কোম্পানিটি ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশ দিয়েছে। সর্বশেষ দুই বছর ১০ শতাংশ করে লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের একাংশের দাবি, নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদান ও ইতিবাচক আর্থিক সূচক থাকা সত্ত্বেও ডরিন পাওয়ারকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় বাজারে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে লভ্যাংশ না দেওয়া বা নিয়মিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ না করা কিছু কোম্পানি তালিকার বাইরে থাকলেও ডরিন পাওয়ারের অন্তর্ভুক্তি নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।


