বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে কুইন ইমানুয়েল নামে একটি প্রভাবশালী আইন প্রতিষ্ঠান। তাদের অভিযোগ, সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বিনিয়োগ চুক্তি লঙ্ঘন করে দেশের ব্যাংকিং খাতের ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অব্যবস্থাপনা সৃষ্টি করেছে।
কুইন ইমানুয়েলের পাঠানো আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, “বাংলাদেশ সরকার ও তার বিভিন্ন সংস্থার কর্মকাণ্ড এবং অবহেলার কারণে বিনিয়োগকারীদের সম্পদের মূল্য আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এই পদক্ষেপ বিনিয়োগ চুক্তির অধিকার এবং বাংলাদেশের আইন লঙ্ঘন করেছে।” এ প্রসঙ্গে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস বাংলাদেশের সরকারের কাছে প্রতিক্রিয়া চাইলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, যিনি হাসিনা সরকারের পতনের পর দায়িত্ব গ্রহণ করেন, এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এস আলম গ্রুপের সাইফুল আলম ও তার সহযোগীরা সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, “এস আলম এবং তার সহযোগীরা ওভার ইনভয়েসিং ও অবৈধ ঋণের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন। এটি যেকোনো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সবচেয়ে বড় ব্যাংক লুটের উদাহরণ।”
এস আলম গ্রুপ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, “এগুলো ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা।” তাদের খাদ্য, নির্মাণ, পোশাক, ও ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা রয়েছে।
নতুন গভর্নর মনসুর মনে করেন, হাসিনা সরকারের সময়ে ব্যাংকিং খাত থেকে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন মুখপাত্র বলেন, “এই ইস্যুগুলো তদন্তাধীন। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আমরা এখনই কোনো মন্তব্য করব না।” এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইনি চাপ এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা বাংলাদেশ সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।


