সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় গণমাধ্যম এবিপি আনন্দের একটি ভুয়া স্ক্রিনশট ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্ক্রিনশটটিতে দাবি করা হয়েছে, এবিপি আনন্দ ফেসবুকে “বাংলাদেশে ফের ধর্ষণের শিকার হিন্দুরা। আজকে ধর্ষণ হয়েছে ৪০ হাজার হিন্দু” শিরোনামে একটি পোস্ট করেছে। তবে ফ্যাক্টচেকিং প্ল্যাটফর্ম রিউমর স্ক্যানার বাংলাদেশ এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভুয়া বলে নিশ্চিত করেছে।
মঙ্গলবার রিউমর স্ক্যানার তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, এবিপি আনন্দ এমন কোনো পোস্ট করেনি। তাদের অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে যে, স্ক্রিনশটটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিকৃত করা হয়েছে। এবিপি আনন্দের ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব চ্যানেলে এমন কোনো পোস্টের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমেও এ ধরনের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এটি একটি অসত্য তথ্য, যা জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রচারিত হয়েছে।
এবিপি আনন্দ নিজেও তাদের ওয়েবসাইটে ১৯ ডিসেম্বর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিয়ে ভুয়া পোস্ট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবিপি আনন্দের নাম ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুয়া স্ক্রিনশটের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা এবং দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করা হতে পারে এর মূল লক্ষ্য। তাই এই ধরনের ভুয়া তথ্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। রিউমর স্ক্যানারসহ অন্যান্য ফ্যাক্টচেকিং প্ল্যাটফর্মগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য সনাক্তে কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্যের শিকার না হতে জনগণকে সোর্স যাচাই করে তথ্য গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে তারা। এই ঘটনা থেকে আবারও প্রমাণিত হলো, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে মিথ্যা প্রচার সহজেই ছড়ানো সম্ভব। তাই সচেতনতার পাশাপাশি দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি।


