টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণসভায় কেন্দ্রীয় নেতারা দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ ও ঐতিহ্যবাহী নেতার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জানানোর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন।
রোববার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “মাওলানা ভাসানীর মতো মহান ব্যক্তিত্বের স্মরণে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের উপস্থিতি প্রত্যাশিত ছিল। এটি কেবল তাদের দায়িত্ব নয়, বরং জাতি হিসেবে আমাদের ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি সুযোগ।”
তিনি দাবি করেন, “গুণীজনদের সম্মান জানানোর ক্ষেত্রে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বিএনপি নেতৃত্বের ভূমিকা ইতিহাসে স্বীকৃত। অথচ বর্তমান সরকার এই বিষয়ে চরম উদাসীন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এখন আরও বেশি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন। তিনি বলেন, “ভাসানী ছিলেন গণমানুষের নেতা। তাঁর আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে চাই। দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় নেতা আবুল কালাম আজাদ, ওবায়দুল হক নাসির এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল।
এর আগে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজারে বিএনপি নেতাকর্মীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং মোনাজাতের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন যে দেশের জনগণ এখন একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রত্যাশা করছে। তারা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন দেখতে চায়। বক্তৃতায় আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে দাবি করা হয় যে, বর্তমান প্রশাসন গুণীজনের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনে ব্যর্থ।
স্মরণসভা শেষে মাওলানা ভাসানীর জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে একটি আলোচনা সেশনের আয়োজন করা হয়, যেখানে তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরা হয়।


