আন্তর্জাতিক অপরাধ সংস্থা ইন্টারপোলের রেড নোটিশের মুখোমুখি হয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। একই সঙ্গে আরও ১১ জন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধেও একই আবেদন করা হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং গণবিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়। তখন দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা, বিক্ষোভ ও সরকারের পতনের দাবিতে আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। সেই সময় ‘পালাবো না’ বলে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া ওবায়দুল কাদের হঠাৎ করেই দেশের বাইরে চলে যান। বর্তমানে তার অবস্থান ভারতে, কলকাতার রাজারহাট নিউটাউনের ডিএলএফ নিউটাউন হাইটস প্লাজার একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে, যেখানে তিনি স্ত্রীসহ অবস্থান করছেন বলে সূত্র জানায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, যার ভিত্তিতে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে এনসিবি ইন্টারপোলের সদর দপ্তরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্যাদি পাঠিয়েছে। এখন ইন্টারপোল তাদের নিয়ম অনুযায়ী সেগুলো যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবে রেড নোটিশ জারি করা হবে কিনা।
তবে এই পদক্ষেপকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। অনেকেই বলছেন, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ, যেখানে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর বিরোধীদের দমন করতে আইনের ব্যবহার করা হচ্ছে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, দীর্ঘদিনের শাসনের দায় এড়াতে পালিয়ে থাকা ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে এই পদক্ষেপ প্রয়োজনীয়।
এখন প্রশ্ন হলো—এই রেড নোটিশ ওবায়দুল কাদেরকে সত্যিই দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবে কি না? ইন্টারপোল সাধারণত রেড নোটিশ জারি করলেও সংশ্লিষ্ট দেশের সহযোগিতা ছাড়া আসামিকে ফিরিয়ে আনা কঠিন। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অভিন্ন স্বার্থ থাকলেও, রাজনৈতিক আশ্রয়ের বিষয়টি জটিল করে তুলতে পারে পুরো প্রক্রিয়াকে।
ওবায়দুল কাদেরের ভবিষ্যত এখন নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক কৌশলের ওপর। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—তার নাম এখন আন্তর্জাতিক নজরদারিতে রয়েছে।


