চট্টগ্রামে জনতা ব্যাংক গণতান্ত্রিক কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল আফসারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছেন। সংগঠনটির মাধ্যমে চাঁদা আদায় ও সরকারি কর্মচারীদের বদলি, নিয়োগ এবং হাউজ বিল্ডিং লোনের অনুমোদন দেয়ার মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানা যায়।
এ অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, কর্মচারীদের বদলি ও অস্থায়ী নিয়োগের জন্য প্রতি ক্ষেত্রে ৪০-৫০ হাজার টাকা করে এবং হাউজ বিল্ডিং লোন পাশ করানোর জন্য ৫০ হাজার টাকা নেয়ার বিষয়। এভাবে গত সাত বছরে মোট ৫০ লাখ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন তিনি। এছাড়া, আওয়ামী লীগের নানা দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি আয়োজনের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকারও বেশি অর্থ অর্জন করেছেন, যার মধ্যে মুজিব বর্ষ উদযাপনেই ৮ লাখ টাকা লোপাট হয়েছে।
মোহাম্মদ নুরুল আফসার ১৯৮৮ সালে জনতা ব্যাংকে অস্থায়ী কর্মচারী হিসেবে যোগ দেন। ২০০৯ সালে স্থায়ী পদে নিয়োগ পান এবং ২০১৭ সালে সিবিএ-র সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেন। এই সময়ে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করতেন এবং নিজের রাজনৈতিক আদর্শকে ব্যবহার করে কর্মচারীদের বদলি ও নিয়োগের সুযোগ পাইয়ে দিতেন।
এছাড়া, ২০২২ সালে নিজের ছেলেকে জনতা ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখায় চাকরি দিতে তিনি তৎকালীন ব্রাঞ্চ ম্যানেজারকে বাধ্য করেন। তার ছেলেকে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোয় সহ-সভাপতি সরোয়ার উদ্দিন এবং কার্যকরী সভাপতি আবুল কাশেমের মতে, নুরুল আফসার এই সমস্ত অপকর্মে সক্রিয় ছিলেন এবং তা রোধ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পদচ্যুত করার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। ২০২3 সালের ১৭ অক্টোবর, তাকে চট্টগ্রাম সি জোনে বদলি করা হলেও, এখনো তার বদলির আদেশ কার্যকর হয়নি।
অভিযোগ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ নুরুল আফসার বলেন, “আমরা সরকারি কর্মচারী, যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, তখন সেই সরকারের কার্যক্রম অনুসরণ করি। এসব অভিযোগ মিথ্যা এবং কোনো রকম অর্থ আত্মসাৎ আমি করিনি।”


