অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, অভ্যুত্থানে আহতদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। আহতদের আর্থিক নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।বুধবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্বাস্থ্যকার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।প্রধান উপদেষ্টা জানান, এই স্বাস্থ্যকার্ডের মাধ্যমে আহত ব্যক্তিরা দেশের যেকোনো সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারবেন। তাদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করাও সরকারের অগ্রাধিকারের অংশ। তিনি বলেন, “জুলাইয়ে আহত যোদ্ধাদের মানসিক, শারীরিক এবং সামাজিক পুনর্বাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সমাজে স্থিতিশীল জীবনযাপন নিশ্চিত করতে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নেব।”
তিনি আরও বলেন, “অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের জন্য আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি সরকার নিশ্চিত করবে। তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে।”অনুষ্ঠানে নরসিংদী ইউনাইটেড কলেজের শিক্ষার্থী ইফাত হোসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান ইমুর হাতে স্বাস্থ্যকার্ড তুলে দেন ড. ইউনূস।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের জন্য প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন জেলায় স্বাস্থ্যকার্ড বিতরণ করা হবে।
জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর খায়ের আহমেদ চৌধুরী জানান, এখন পর্যন্ত ১,০৭৪ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৯ জনের দুই চোখ চিরতরে নষ্ট হয়ে গেছে। প্রায় ৪৫০ জনের এক চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৬৫০টিরও বেশি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে।অপরদিকে, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর) পরিচালক ড. আবুল কেনান জানিয়েছেন, তাদের হাসপাতালে ২১ জন রোগীর হাত বা পা কেটে ফেলতে হয়েছে। তবে অধিকাংশ রোগী ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে।
ড. ইউনূস বলেন, “আহত ব্যক্তিরা যেন আনন্দের সঙ্গে নিজেদের পছন্দের কাজ করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। ধাপে ধাপে তাদের জন্য একটি পথ তৈরি করতে হবে। শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক পুনর্বাসনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।”চিকিৎসা কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক চিকিৎসকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


