সিলেটের তামাবিল সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করতে গিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে আটক হয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা ও তার সহযোগী। গত বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় সিলেটের তামাবিল সীমান্তে ১২৭৭ নম্বর পিলার সংলগ্ন ভারতের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশের সময় তাদের আটক করে বিএসএফ।
আটককৃতরা হলেন— ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার তারাইল ঈশ্বরদী গ্রামের মোখলেছুর রহমান সুমন (৪০) এবং সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার আবুল কালাম। সুমন বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক এবং ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি।
বিএসএফ কর্তৃপক্ষ শনিবার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে সিলেটের তামাবিল সীমান্তে এক পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আটক দুজনকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। এরপর বিজিবি তাদের গোয়াইনঘাট থানায় হস্তান্তর করে।
৪৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক বলেন, তামাবিল সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা দুই বাংলাদেশিকে আটক করেছিল। পরে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী তারা বিজিবির হেফাজতে আসে।
পুলিশ জানায়, মোখলেছুর রহমান সুমনের বিরুদ্ধে ভাঙ্গা থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো থেকে বাঁচতে তিনি দেশত্যাগের পরিকল্পনা করেন। এই পরিকল্পনায় সহায়তা করেন আবুল কালাম নামের এক ব্যক্তি, যিনি এক লাখ টাকার বিনিময়ে সুমনকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নেন।
গোয়াইনঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম কবির হোসেন বলেন, “আটককৃতদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্ত শেষে রোববার (১৩ জুলাই) তাদের আদালতে পাঠানো হবে।”
এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একজন নেতার এমন পালানোর চেষ্টাকে রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


