খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগ দাবিতে দেশজুড়ে উত্তাল হয়ে উঠেছে শিক্ষাঙ্গন। মঙ্গলবার দিবাগত রাতের শাহবাগ অবরোধ কর্মসূচি থেকে দেশব্যাপী সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস বর্জনের ডাক দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
‘শাহবাগ ব্লকেড’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, “আমরা একটিই দাবি জানাচ্ছি—কুয়েটের দুর্নীতিপরায়ণ ও স্বৈরাচারী উপাচার্যকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। বুধবার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতীকী অনশন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।”
রাজধানীর বুয়েট, চুয়েট, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি), ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে যোগ দেন। স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে শাহবাগ মোড়—‘এক দফা এক দাবি, ভিসির পদত্যাগ চাই’, ‘শিক্ষা-সন্ত্রাস একসাথে চলে না’, ‘আমার ভাই অনশনে, আমরা রাস্তায়’। রাত ১২টা ১৫ মিনিটে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে শিক্ষার্থীরা শাহবাগ ত্যাগ করেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কুয়েট শিক্ষার্থী সৈকত বলেন, “আমরা শুধু নিজেদের জন্য লড়ছি না। আমরা চাই স্বচ্ছতা ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা। আমাদের আন্দোলনে যারা সংহতি জানিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আমাদের এই আন্দোলন ভবিষ্যতের জন্য একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।”
বুয়েট শিক্ষার্থী আব্দুন নুর তুষার বলেন, “৩৬ ঘণ্টা ধরে অনশন চলছে। এই অবস্থায় আমরা শ্রেণিকক্ষে ফিরে যেতে পারি না। শিক্ষার্থীদের ওপর অবিচার চলবে আর আমরা চুপ করে বসে থাকব—তা হতে পারে না।”
অন্যদিকে, কুয়েট প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চুয়েট ও জবি শিক্ষার্থীরাও। তাঁদের দাবি, অনশনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ করুক অন্তর্বর্তী সরকার।
রাজু ভাস্কর্যে অনশনরত বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের নেতাকর্মীরাও ঘোষণা দিয়েছেন, “এই অনশন চলবে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত।” দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের একতাবদ্ধ এই আন্দোলন যেন হয়ে উঠেছে শিক্ষাঙ্গনে স্বৈরাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাগরণের প্রতীক।


