Saturday, June 6, 2026
Home অর্থ-বানিজ্য সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে ফলন ২৫ শতাংশ বাড়াতে পারে

সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে ফলন ২৫ শতাংশ বাড়াতে পারে

আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় যথাযথ চাষ-পদ্ধতির মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষকেরা তাদের ফসলের (বিশেষত ধান) উৎপাদন অন্তত ২৫ শতাংশ বাড়াতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন এক ডাচ পরিবেশ ও মৃত্তিকা বিজ্ঞানী।

ফসলের উৎপাদন  বাড়ানো ও ক্ষতি কমাতে এ ধরনের চাষাবাদে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

সম্প্রতি  নেদারল্যান্ডসের উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জেটসে স্টরভোগেল বলেন, ‘মাটির অবস্থা, আবহাওয়া ও ফসলের মান সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়ার পর সেই মোতাবেক চাষাবাদ করা দরকার।’

‘বাংলাদেশে চাষাবাদ ক্রমাগত বাড়ছে। যেখানে পৃথিবীর অনেক দেশে কৃষি প্রবৃদ্ধি স্থবির বা কমছে।’

এই অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে ও অনুকূল করতে বাংলাদেশে সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ জরুরি। তার মতে, বাংলাদেশের বর্তমান ফসল উৎপাদন বিশেষ করে ধান উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৫০ শতাংশ।

অধ্যাপক স্টরভোগেল বলেন, ‘প্রতি হেক্টরে চার-পাঁচ টন ফসল উৎপাদিত হচ্ছে; ১০ টন উৎপাদন সম্ভব।’ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যথাযথ নিয়মে চাষাবাদ করলে ফলন বেশি হবে, যোগ করেন তিনি।

সম্প্রতি ঢাকা সফর করেছেন অধ্যাপক স্টরভোগেল। তার মতে—যদি জমির একটি অংশে ফলন কম হয়, তাহলে সেখানে আরও সারের প্রয়োজন আছে কিনা তা শনাক্ত করতে দরকার যথাযথ কৃষি ব্যবস্থা।

কৃষকরা আরও দক্ষতার সঙ্গে চাষাবাদ করলে খরচ ও পরিবেশগত ক্ষতি কমতে পারে। পাশাপাশি, ফলন বাড়াতে পারে।

বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বাড়তি জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কৃষিকে অবশ্যই জলবায়ু পরিবর্তন ও বাজার পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম করতে হবে।

তার দৃষ্টিতে, বাংলাদেশ কিছু অগ্রগতি অর্জন করেছে। বিশেষ করে, বীজ উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন গ্রহণের ক্ষেত্রে। এটাই সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের প্রাথমিক পর্যায়।

বিশ্ব অনেক এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশ এখনো সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের প্রাথমিক পর্যায়ে আছে, বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তার ভাষ্য, ‘অনেক দেশে মোবাইল ফোনে সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে কৃষি পরামর্শের সঙ্গে কৃষি যন্ত্রপাতিও পাওয়া যায়।’

আফ্রিকার কেনিয়া ও প্রতিবেশী ভারতের মতো দেশে ছোট চাষিরা ইতোমধ্যে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উপকার পাচ্ছেন। বাংলাদেশের চাষিরাও উপকৃত হতে পারেন। স্মার্টফোন ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে কৃষি খাতে জ্ঞান ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন হচ্ছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে—সারের অতিরিক্ত ব্যবহার। অনেক বাংলাদেশি কৃষক প্রতি হেক্টরে ৩০০ কেজিরও বেশি সার ব্যবহার করেন। হয়ত এত সারের প্রয়োজন নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

ডিজিটাল হচ্ছে ভ্যাট রিটার্ন, কমছে প্রশাসনিক জটিলতা ও ভোগান্তি

দেশের মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আনতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাট নিবন্ধিত (বিআইএনধারী) প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য...

বিদ্যুতের নতুন মূল্যেও বাজারে বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের ফলে বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হবে না বলে মনে করছে সরকার। তবে এ সুযোগে কেউ অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম...

রাজধানীর তাপমাত্রা নিয়ে সুখবর দিল আবহাওয়া অফিস

কয়েক দিনের ভ্যাপসা গরম ও তাপপ্রবাহের পর রাজধানীবাসীর জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ ঢাকায় তাপমাত্রা সামান্য কমে গরমের তীব্রতা কিছুটা প্রশমিত...

ডেঙ্গু প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দুই থেকে তিনদিন পর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু...

Recent Comments