তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে চালানো হয় ভয়াবহ অভিযান। গভীর রাতে পরিচালিত এই ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’-এর ঘটনায় বহু হতাহতের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ১৩ বছর পর এ নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্ত শুরু করেছে। হেফাজতে ইসলাম এ ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেছে। ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে অভিযানের পেছনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে জড়িত ব্যক্তিদের তথ্য চেয়ে পুলিশের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে ডিএমপির নিরাপত্তা পরিকল্পনা, অভিযানে ব্যবহৃত অস্ত্র ও যানবাহনের তথ্য, এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নামসহ আট ধরনের তথ্য চাওয়া হয়েছে।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, অভিযানের আগে সরকারের উচ্চপর্যায়ে বৈঠক হয়। আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা সৈয়দ আশরাফ পরিকল্পনার দায়িত্বে ছিলেন। বৈঠকে তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদের নেতৃত্বে অভিযান চূড়ান্ত হয়। পরে শেখ হাসিনার অনুমোদনে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে অভিযান শুরু হয়। অভিযানে ৫ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য অংশ নেন। হেফাজত দাবি করে, এতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং অনেক লাশ গুম করা হয়। তবে তৎকালীন সরকার প্রাণহানির অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
তদন্তে জানা যায়, অভিযানে জড়িত কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করা হয়। পরের বছর পুলিশ সপ্তাহে অন্তত ২০ জনকে বিপিএম পদক দেওয়া হয়। তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ, হারুন-অর-রশিদসহ বেশ কয়েকজন আলোচিত কর্মকর্তার নাম উল্লেখযোগ্য। হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা সাজেদুর রহমান বলেন, “এ ঘটনায় সুনির্দিষ্টভাবে নাম-ঠিকানাসহ নিহতদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে।”
আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের তদন্তে অভিযুক্তদের ভূমিকা ও ঘটনার প্রকৃত চিত্র উন্মোচনের প্রত্যাশা করছে সবাই। দীর্ঘদিন পরও এ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি কী মোড় নেয়, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।


