একসময় সুনামগঞ্জে বাবার মুদির দোকানের পাশে লুঙ্গি সেলাই করে দিন পার করতেন সুজিব রঞ্জন দাস সলটু। অল্প কিছুদিনের ব্যবধানে সেই সলটু এখন কানাডা ও দুবাইয়ে বিলাসবহুল সম্পত্তির মালিক। কানাডার টরেন্টোতে তার রয়েছে শত কোটি টাকার চারটি বাড়ি, আরব আমিরাতে রয়েছে ফ্ল্যাট। প্রতিদিন কোটি টাকা জুয়া খেলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এই অবিশ্বাস্য উত্থানের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক সম্পর্ক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আশীর্বাদ। মরহুম পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদের স্নেহধন্য হয়ে রাজনীতির গণ্ডিতে পা রাখেন সলটু। পরবর্তীতে শেখ সেলিমের ছেলে শেখ ফজলে ফাহিমের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, ফাহিমের সহযোগিতাতেই কানাডায় বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার এবং দেশে সরকারি সুবিধা গ্রহণ করেন সলটু।
২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এফবিসিসিআই সভাপতির দায়িত্বে থাকাকালীন শেখ ফাহিমের সহায়তায় সলটু সুনামগঞ্জে একটি গ্যাস পাম্প স্থাপন করেন। এ পাম্প থেকেই দীর্ঘদিন ধরে অসাধু কর্মকর্তাদের সহায়তায় গ্যাস চুরির অভিযোগ ওঠে। গোপন তথ্যে জানা যায়, এই গ্যাস অবৈধভাবে সিলিন্ডারে ভরে বিভিন্ন শিল্পকারখানায় সরবরাহ করা হতো।
সলটুর এই অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অনুসন্ধানে উঠে আসে বিদেশে সম্পত্তি কেনার চিত্র। ২০১৯ সালে তার স্ত্রীর নামে টরেন্টোর স্কারবোরোতে শত কোটি টাকা মূল্যের একটি বাড়ি কেনা হয়। আরও দুটি বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ‘ইকুইটি ক্রেডিট ইউনিয়ন ইনক’ ও ‘কুবার মর্গেজ ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন’-এর মাধ্যমে টাকা পরিশোধের তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থ পাচারের এই প্রক্রিয়াগুলোর পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতির ছাপ স্পষ্ট।
সলটুর অতীত সম্পর্কেও বিতর্ক রয়েছে। ২০১৭ সালের হাওর দুর্নীতি মামলায় তিনি ও তার বন্ধু যুবলীগ নেতা খায়রুল হুদা চপল আসামি হলেও পরবর্তীতে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়। এই ঘটনা দুদকের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।
বর্তমানে কানাডায় পলাতক সলটু ও চপল উভয়েই বিলাসী জীবনযাপন করছেন। কানাডা প্রবাসী অনেক বাংলাদেশি এই ধরনের লুটেরা গোষ্ঠীর কারণে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আক্ষেপ করেছেন।
সলটুর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল কেটে দেন এবং কোনো বার্তার উত্তর দেননি। শেখ ফজলে ফাহিমও দেশে পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


