দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তরের জেলা সিরাজগঞ্জ ও পঞ্চগড়ের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। আগামীকাল শনিবার থেকে রাতের তাপমাত্রা আরও (১-৩) ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে, তবে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। শুক্রবার আবহাওয়া অফিস থেকে প্রকাশিত ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার থেকে দেশের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে শুরু করেছে। এতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান অনেকটা কমে এসেছে। রাজশাহীর বাঘাবাড়ীতে বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। অপরদিকে, তেঁতুলিয়ায় আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকার পরিস্থিতিও একই রকম। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আজ সর্বনিম্ন ১৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে।
আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা জানিয়েছেন, শীতের এই প্রভাবের কারণ উপ-মহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ, যা বর্তমানে বিহার ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, যা উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। পূর্বাভাসে আরও জানানো হয়েছে, আগামী তিন দিন সারা দেশে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা কিছু এলাকায় দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
বিশেষত ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নদীপথ এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অফিস। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শীতের প্রকোপ বাড়লেও দিনের তাপমাত্রা স্থিতিশীল থাকায় কর্মব্যস্ত দিনের কাজের ওপর খুব বেশি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে রাতের তীব্র শীতে অসুস্থতা এড়াতে সবাইকে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র ব্যবহার এবং সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।


