বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার (৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি হাসপাতালে পৌঁছান। লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে নিজেই গাড়ি চালিয়ে মাকে হাসপাতালে নিয়ে যান তার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। লন্ডনে পৌঁছানোর পর হুইলচেয়ারে করে খালেদা জিয়া যখন ছেলের কাছে আসেন, তখন তারেক রহমান তাকে জড়িয়ে ধরেন। এই মুহূর্তটি পরিবার ও উপস্থিত বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।
বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, বিমানবন্দরে খালেদা জিয়াকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন তারেকের মেয়ে জাইমা রহমান এবং বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা। এর আগে, মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) রাত ১১টা ৪৬ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কাতার আমিরের পাঠানো একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা দেন খালেদা জিয়া। দীর্ঘ সাত বছরের মধ্যে এবারই প্রথম তার বড় ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি দেখা হলো।
এই সফরে খালেদা জিয়ার সঙ্গী হয়েছেন ১৫ জন। তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সিঁথি রহমান, ব্যক্তিগত চিকিৎসকসহ দলের কয়েকজন নেতাকর্মী। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের জুলাইয়ে সর্বশেষ লন্ডন সফর করেছিলেন খালেদা জিয়া। এর পর থেকে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তিনি। বিএনপি নেত্রী দীর্ঘদিন ধরে লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত।
তার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খালেদা জিয়াকে লন্ডনের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হবে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা বেশ জটিল এবং উন্নত চিকিৎসা না পেলে তার অবস্থার অবনতি হতে পারে। এই সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন পর তারেক রহমান ও খালেদা জিয়া একসঙ্গে সময় কাটাবেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা সৃষ্টি করেছে।


