দীর্ঘ দুই দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে চট্টগ্রাম সফরে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁকে স্বাগত জানাতে বন্দরনগরীতে বিএনপির কর্মীদের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। রবিবার পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত হবে জনসভা। স্থানীয় নেতাদের দাবি, জনসমুদ্রে রূপ নেবে এ সমাবেশ।
২০০৫ সালে চার দলীয় জোট সরকারের সময় শেষবারের মতো চট্টগ্রাম সফর করেন তারেক রহমান। বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যান থাকলেও সে সময় তিনি দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
নেতাকর্মীদের তথ্যমতে, পলোগ্রাউন্ড মাঠে জনসভার প্রস্তুতি চলছে। মাঠের দক্ষিণ প্রান্তে ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যের মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। নেতাকে স্বাগত জানাতে তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুনে ঢেকে দেওয়া হয়েছে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো। প্রস্তুতি তদারকিতে থাকা নেতারা বলছেন, নেতাকে বরণ করতে বহু বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। এবার মুক্ত পরিবেশে সেই সুযোগ মিলেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আজ শনিবার রাতে তারেক রহমান চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন এবং রাতে নগরে অবস্থান করবেন। পরদিন বেলা ১১টায় পলোগ্রাউন্ড মাঠে তিনি বক্তব্য দেবেন। তারেক রহমানের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমন ঘটবে।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে এর আগে অনেক সমাবেশ হয়েছে, কিন্তু এবারের সমাগম হবে ব্যতিক্রম। দীর্ঘদিন পর তারেক রহমান নিজে চট্টগ্রামে এসে কথা বলবেন-এটি মানুষ ভিন্নভাবে গ্রহণ করছে। এটি কোনো একক দলের কর্মসূচি নয়, এটি একটি জনসম্পৃক্ত আয়োজন।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আজম খাজা বলেন, চট্টগ্রামে তারেক রহমানের আসার বিষয়টি অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে চাচ্ছিলাম। আমরা সেদিকেই এগোচ্ছি। সমগ্র চট্টগ্রামবাসী উৎসবমুখর পরিবেশে তাঁকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করছে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো. এরশাদ উল্লাহ বলেন, শত বাধার মধ্যেও অতীতে বিএনপির সভা-সমাবেশে লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে। তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে এবার পলোগ্রাউন্ড ছাড়িয়ে রাজপথেও জনস্রোত থাকবে বলে আমরা ধারণা করছি।
বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সর্বশেষ ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এর ১৪ বছর পর একই মাঠে দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর সন্তান তারেক রহমানের বক্তব্য দেবেন।