রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর মোড় ও হোপ মার্কেট এলাকায় হকারদের বেপরোয়া আচরণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি, এসব এলাকায় একের পর এক নারী ক্রেতাদের সাথে অশালীন আচরণ, শ্লীলতাহানি এবং কিশোরদের মারধরের ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়রা এসব ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর, পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে।
গত ৫ দিনের মধ্যে তিনজন নারীসহ চারজনকে গণপিটুনি ও হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। ২৪ মার্চ মিরপুর ১০ নম্বরে হোপ মার্কেটের গলিতে দুটি তরুণী জুতা কিনতে গেলে, পায়ে পিন বিঁধে যায়, যা নিয়ে দোকানদারের সাথে তর্ক বাধে। প্রতিবাদ করায় দোকানদার ও তার সঙ্গীরা ওই তরুণীকে হেনস্থা করেন। এর পরদিন একই জায়গায় একটি জামার দাম নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় এক নারীকে মারধর করা হয়। এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে, এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশের সাহায্য নেন।
একই দিনে, ১০ নম্বর মোড়ের ফুটপাতে এক নারী ক্রেতার সঙ্গে জামার দাম নিয়ে তর্কে জড়ান এক হকার। এরপর, তার ছেলে বাধা দিলে হকাররা মিলে ৬-৭ জনে কিশোরটিকে মারধর করেন। এই ঘটনার পর স্থানীয় দোকানিরা জানান, তারা হকারদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ, কারণ তারা যে ধরণের আচরণ করছে তা নিন্দনীয়। তারা আরো বলেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর, স্থানীয় জনগণ একত্রিত হয়ে তাদের সহায়তায় পুলিশ তিনটি ঘটনায় মোট সাতজন হকারকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া, পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব এলাকায় টহল বাড়ানো হবে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের আচরণ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমান বলেন, “যারা এই ধরনের অপরাধে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তারা যে দলের বা অবস্থানেই থাকুক না কেন, অপরাধ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
এদিকে, এলাকাবাসী জানিয়েছেন, এসব হকারদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে, বিশেষত নারী ক্রেতাদের সাথে খারাপ আচরণ ও হেনস্থার বিষয়ে। তারা অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যেন ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।


