মঙ্গলবার রাতে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক অপরাধে অভিযুক্ত সোহেল মুরাদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছিলেন, তবে বিমানের টিকিট চেকিংয়ের সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মুরাদ তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের অর্থ উপার্জন করেছেন, এবং সে কারণে গুলশানের ব্যবসায়ী মহলে তার প্রতি ভয় ও আতঙ্ক ছিল।
সূত্র জানায়, মুরাদ শেখ হেলালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন এবং তার দ্বারা সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিলেন। তিনি শেখ হেলালের ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ অর্জন করেছেন, যার মধ্যে টেন্ডারবাজি, কমিশন বাণিজ্য এবং অন্যান্য অবৈধ ব্যবসা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর ফলে তিনি দেশের বড় ব্যবসায়ী এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে এক শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, মুরাদকে গ্রেফতারের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রেজাউল করিম মল্লিক গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অপরাধের তদন্তও চলছে।
এছাড়া, একটি সূত্রের দাবি, মুরাদ ছাত্র আন্দোলনের সময়ও একজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। সোহেল মুরাদ বিপুল পরিমাণ অর্থের যোগান দিয়েছিলেন, যা ছাত্র হত্যার ঘটনার সাথে সম্পর্কিত। এ নিয়ে তদন্তের কাজ চলছে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের অভিযোগ উঠতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে মুরাদের গ্রেফতার দেশব্যাপী আলোচনা সৃষ্টি করেছে, কারণ তার কর্মকাণ্ড নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের প্রমাণ পেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


