রাজধানীর ডা. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে গতকাল ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ হামলায় তিনজন শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন এবং শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফ সামী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো হামলার বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কলেজ কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আজ দুপুরে ‘সাত কলেজ’ ব্যানারে বহিরাগত একদল সন্ত্রাসী কলেজে প্রবেশ করে এবং তারা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। হামলার ফলে তিন শিক্ষার্থী নিহত এবং অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও বাহিরের ব্যক্তিরা জড়িত ছিলেন, যাদের মধ্যে শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ এবং ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের কিছু ছাত্রও ছিল। কলেজ কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, হামলাকারীরা ছাত্রলীগের মদদপুষ্ট এবং তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল।
হামলাকারীরা কলেজের নথিপত্র, সম্পদ এবং শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত মালামাল লুট করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তারা এছাড়া কলেজ ভবনের বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর চালিয়েছে, যার মধ্যে অধ্যক্ষের কার্যালয়ও রয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ বারবার প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য চেয়েও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
কিছুক্ষণের মধ্যে, কলেজের পক্ষ থেকে প্রশাসন, পুলিশ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করা হয়:
১. হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
২. শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কলেজে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
৩. লুটকৃত সম্পদ উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত নথি পুনরুদ্ধারের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
কর্তৃপক্ষ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই নৃশংস হামলার পরও তারা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং শিক্ষা পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে ধৈর্য্য ও সংহতি বজায় রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এছাড়া, এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সর্বোচ্চ পর্যায়ের সহযোগিতার জন্য আবেদন জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।


