শিল্প পুলিশের হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নানা সংকটে ৪৮টি কারখানা প্রায় ২৪ হাজার শ্রমিক ও স্টাফের পাওনা পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। গত ঈদুল ফিতরের সময় চিহ্নিত হওয়া অধিকাংশ কারখানা এবারো একই তালিকায় রয়েছে। ফলে ঈদের আগে শ্রমিক অসন্তোষ, বিক্ষোভসহ কারখানাগুলোতে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। যদিও পরিস্থিতি সামাল দিতে মালিক পক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমাধানের চেষ্টার কথা জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের তথ্যমতে, চট্টগ্রামের ১০টি জোনে মোট ৪৮টি কারখানায় ঈদুল আজহার বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এসব কারখানায় প্রায় ২১ হাজার ৪৮১ জন শ্রমিক ও ২ হাজার ২১ জন অন্যান্য স্টাফ কর্মরত আছেন।
পাহাড়তলী জোনের চারটি কারখানায় মোট ২৮৯ জন শ্রমিক ও ৩২ জন স্টাফ কর্মরত আছে। সীতাকুণ্ড জোনের মার্স টেক্সটাইল লিমিটেড নামের সুতা কারখানার ৮৬০ জন শ্রমিক ও স্টাফ বেতন-ভাতা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে আছে। যদিও কারখানাটি লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছে। চান্দগাঁও জোনে সবচেয়ে বেশি ১৪টি কারখানার ৭ হাজার ৮১ শ্রমিক ও ৪৮৫ জন অফিস স্টাফ কাজ করেন। পাঁচলাইশ জোনের তিনটি কারখানায় ১ হাজার ৮৪০ জন শ্রমিক ও ১৩৫ জন স্টাফ কাজ করেন। কোতোয়ালি জোনের দুটি কারখানায় মোট ২৯৩ জন শ্রমিক কাজ করেন। এছাড়া কর্ণফুলী জোনের সাতটি কারখানায় ২ হাজার ২৮৪ জন শ্রমিক ও ২৯২ জন স্টাফ বেতন-ভাতা ঈদের আগে পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছেন।
শিল্প পুলিশ চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-মাহমুদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ৪৮টি কারখানায় ঈদের বেতন-ভাতা নিয়ে সমস্যা হতে পারে। কারখানাগুলোর মালিক পক্ষ এবং শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ যে তালিকা তৈরি করি সেটা চূড়ান্ত করতে কিছু সময় লাগবে। যে তথ্য আছে তার সঙ্গে আরো বেশ কয়েকটি কারখানায় অসন্তোষ তৈরির সম্ভাবনা আছে। দুই-তিনদিন আগে দুটি কারখানায় যেখানে বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়ে কোনো শঙ্কা না থাকলেও তারা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছে ঈদের ছুটি দুইদিন বাড়ানোর জন্য। অনেক সময়ে তালিকা তৈরি করলে যেখানে বেতন-ভাতা নিয়ে সমস্যা থাকে না কিন্তু পরে সেখানে কোনো না কোনো ঝামেলা তৈরি হয়। তবে ঈদের আগে যাতে বেতন-ভাতা নিয়ে কোনো সংকট তৈরি না হয়, সেজন্য ঝুঁকিপূর্ণ কারখানাগুলোর মালিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’
শিল্প পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম শিল্পাঞ্চলে মোট ১ হাজার ৬৭৬টি কারখানার মধ্যে আসন্ন ঈদের আগে এপ্রিলের বেতন এবং চলতি মে মাসের অন্তত ২০ দিনের বেতন ও ঈদ বোনাস শ্রমিকদের বুঝিয়ে দিতে মালিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিছু কারখানা এরই মধ্যে এপ্রিলের বেতন পরিশোধ করেছে। সেখানে ৪৮টি কারখানা পুরনো বেতন কিংবা চলতি মাসের বেতন ও ঈদের বোনাস দেয়া নিয়ে সংকটে আছে। তবে কোরবানির ঈদের এখনো বেশ কিছুদিন হাতে সময় আছে। পুলিশের পক্ষ থেকে মালিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ চলছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠান ছিল কর্মীবান্ধব। বেতন-ভাতা নিয়ে কখনই কোনো সমস্যায় পড়েনি। শ্রমিক অসন্তোষের কোনো ঘটনা এ কারখানায় হয়নি আগে। তবে কভিডের পর থেকে কারখানার আয় ও ব্যয়ের ভারসাম্য ধরে রাখা যায়নি। কাজ কমে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠান চালাতে কাজের ক্ষেত্র ছোট করতে হয়েছে। শ্রমিকদের পাওনা দিয়ে ছাঁটাই করা হয়েছে। এখন লোকবল আগের অর্ধেকে নেমে আসার পরও কারখানা চালাতে মালিক হিমশিম খাচ্ছে। এপ্রিলের বেতন প্রায় পরিশোধ করা হয়েছে। ঈদের আগে হয়তো মে মাসের বেতন দেয়া সম্ভব হবে না। তবে যারা বোনাসের যোগ্য, তাদের বঞ্চিত করা হবে না।
কর্ণফুলী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ঈদের আগে বেতন-ভাতা বা বোনাস নিয়ে ব্যর্থ হতে পারে এমন যে চারটি প্রতিষ্ঠানের নাম শিল্প পুলিশের তালিকায় এসেছে তাদের মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠান এপ্রিলের বেতন-ভাতা দিয়ে দিয়েছে। তারা বোনাসও দিয়ে দেবে। তবে স্টং ফুড ওয়্যার নামের জুতার কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মালিক পক্ষ কারখানাটির বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়ে শঙ্কার মধ্যে আছে। তবে ঈদের আগে কারখানাগুলো তাদের পলিসি অনুযায়ী, মে মাসের বেতন পরিশোধ করবে কিনা বা মাসের অর্ধেক বেতন দিতে পারবে কিনা সে বিষয়ে কথা চলছে।


