নির্বাচনী ইশতাহারে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আজ দেশের ১০টি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খবর বাসস।
গতকাল দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে কৃষি ও কৃষিজাত শিল্পায়নে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ‘নির্বাচনী বিজয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তার ইশতাহারে দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো একে একে বাস্তবায়ন করছেন। এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো কৃষকদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করা। প্রথম পর্যায়ে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় এ কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩০ লাখ কৃষককে এ বিশেষ কার্ডের আওতায় আনা হবে। টাঙ্গাইলে উদ্বোধনী দিনে ১ হাজার ৫০০ জন কৃষকের হাতে ব্যক্তিগতভাবে এ কার্ড তুলে দেয়ার মাধ্যমে এ যুগান্তকারী কর্মসূচির সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী।’
প্রাক-পাইলট পর্যায়ে পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার কমলাপুর ব্লক, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি ব্লক, ঝিনাইদহের শৈলকূপার কৃপালপুর ব্লক, পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার রাজাবাড়ি ব্লক, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া ব্লক, কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার অরণাপুর ব্লক, টাঙ্গাইলের টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ ব্লক, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার তেনাপচা ব্লক, মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ব্লক, পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পাঁচপীর ব্লক ও জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ব্লকে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হচ্ছে।
তিন ধাপে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব কৃষককে এ ‘কৃষক কার্ড’ দেবে সরকার। পাঁচটি শ্রেণীতে ভাগ করে দেয়া হবে এ কার্ড। এর মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি ঋণসহ ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন কার্ডধারী কৃষকরা।
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, কৃষক কার্ড বিতরণ তিন ধাপে বাস্তবায়িত হবে। এগুলো হলো প্রাক-পাইলটিং (পরীক্ষামূলক), পাইলটিং ও দেশব্যাপী কার্যক্রম। প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের পাশাপাশি মৎস্যচাষী বা আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খাতে নিয়োজিত খামারি ও দুগ্ধ খামারিসহ ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণীর কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে লবণচাষীও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
প্রাক-পাইলটিংয়ের জন্য ব্যয় হবে প্রায় ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রাক-পাইলটিং শেষ হওয়ার পর আগামী আগস্ট পর্যন্ত ১৫টি উপজেলায় পাইলটিং কার্যক্রম শুরু করা হবে। এর অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী চার বছরে সারা দেশে এ কার্ড বিতরণ ও তথ্যভাণ্ডার তৈরির কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ওই ১১টি ব্লকের কৃষক, মৎস্যচাষী, প্রাণিসম্পদ খামারি ও লবণচাষীকে ‘কৃষক কার্ড’ দেয়া হবে। এটি একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড। সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় পর্যায়ের শাখায় সংশ্লিষ্ট কৃষকদের নামে এ কার্ডের বিপরীতে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভূমিহীন কৃষক ২ হাজার ২৪৬ জন, প্রান্তিক কৃষক ৯ হাজার ৪৫৮ জন, ক্ষুদ্র কৃষক ৮ হাজার ৯৬৭ জন, মাঝারি কৃষক ১ হাজার ৩০৩ এবং বড় কৃষক ৯১ জন। এর মধ্যে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের কার্ডের মাধ্যমে বছরে আড়াই হাজার টাকাও নগদ দেয়া হবে। ২২ হাজার ৬৫ জনের মধ্যে এ সংখ্যা ২০ হাজার ৬৭১ জন।
কার্ড পাওয়া কৃষকরা ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন। এগুলো হলো ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তি, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, মোবাইল ফোনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য, কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ, ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ, কৃষি বীমা সুবিধা এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুবিধা।
কৃষিমন্ত্রী জানান, কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছে সরবরাহ করা পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন ব্যবহার করে সার, বীজ, মৎস্য বা প্রাণিখাদ্যসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ কিনতে পারবেন।


