দেশের আলেমরা মাদকের কুফল ও প্রতিকার নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা দিয়েছেন। তাদের মতে, মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ইমাম-খতিব, জনপ্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের সমন্বয়ে একটি কমিশন গঠন করা উচিত। এই কমিশন মাঠ পর্যায়ে মাদক প্রতিরোধে উদ্যোগ নিতে পারে এবং আলেম-উলামা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সরকারের এই উদ্যোগে সহযোগিতা করবে।
মাদানী মজলিস বাংলাদেশ আয়োজিত ‘দেশ ও জাতির কল্যাণে মাদকের কুফল ও প্রতিকার’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে বক্তারা এই সুপারিশ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মুহাম্মদ ইউছুফ। তিনি বলেন, “মাদক সমাজে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে ইয়াবা। এটি যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে আগামী ১০-১৫ বছরের মধ্যে জাতি বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।”
সেমিনারে আলোচকরা আরও জানান, ইয়াবা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গ্রাম-শহরে মাদক সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। এজন্য সরকারের পাশাপাশি সমাজের আলেম-উলামাদের সহযোগিতা কামনা করেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচক, ভারতীয় প্রখ্যাত আলেম সায়্যিদ আফফান মানসুরপুরী মাদকের কুফল ও ইসলামের দৃষ্টিতে এর নিষিদ্ধতা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি ইসলামের প্রথম যুগে মদ ও নেশার সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসের বিধান তুলে ধরেন।
বিশেষ অতিথি অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল জানান, দেশের ৬৮ কারাগারের ২৫ শতাংশ বন্দি মাদকাসক্ত। তিনি আলেম সমাজকে মাদক প্রতিরোধে কাজ করার জন্য ধন্যবাদ জানান। সেমিনারে মাদানী মজলিস বাংলাদেশ’র সভাপতি শায়খ মুফতি হাফীজুদ্দীন ৯ দফা দাবি তুলে ধরেন, যার মধ্যে সরকারি কমিশন গঠন, মাদকদ্রব্য উৎপাদন ও চোরাচালান বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের যথাযথ প্রয়োগের প্রস্তাব ছিল।
মুফতি হাফীজুদ্দীন বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই, বিশেষত নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করার জন্য।”এছাড়া সেমিনারে একাধিক বক্তা এবং গবেষকরা মাদকের কুফল ও প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করেন।


