নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়ে পরিষ্কার দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। তিনি বলেন, “এখন বিতর্ক তৈরি হয়েছে, আগে সংস্কার না আগে নির্বাচন। কিন্তু সংস্কারের সীমা কি? সভ্যতার শুরু থেকেই সংস্কার চলেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতায় থাকার সময়ে এই সংস্কার করা সম্ভব। কিন্তু স্পষ্ট করে বলতে হবে, আপনারা কোন সংস্কার করতে চান।”সোমবার (২০ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ সংস্কার পার্টির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মান্না এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, “সরকার যদি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়, তাহলে বিরোধী দলগুলো বাধা দেওয়ার সুযোগ পাবে না। তবে সংস্কার স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট হতে হবে। আমি চাই, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। কিন্তু সরকার ও বিরোধী দল এই বিষয়ে একমত হতে পারছে না।” বিএনপির আপত্তি ও সরকারের অক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “বিএনপি যে বিষয়ে আপত্তি করেছে, সেখানে সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। প্রেসিডেন্ট পরিবর্তনের মতো বিষয়েও তারা সফল হয়নি। বিরোধী দলের আপত্তি ও চাপের মুখে সরকারের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে।”
সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনা করে মান্না বলেন, “অপরাধ ও চাঁদাবাজি চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়, বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন জায়গা দখলে চলে গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সরকারের অকার্যকর অবস্থার কারণে নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না। তারা ভাবছে, আগামী নির্বাচনের পর বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারে।” বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে লাভবান হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ৫ আগস্টের বৈঠকের পর সেনাপ্রধানও তাদের নাম উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আন্দোলনের সময় মাঠে আমরা গণতন্ত্র মঞ্চ ছাড়া কাউকে পাইনি। অথচ এখন তারা লাভবান হচ্ছে।”
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সংস্কার পার্টির নির্বাহী সভাপতি মেজর (অব.) আমীন আহমেদ আফসারী। শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরী, প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানও বক্তব্য দেন। মান্নার মন্তব্য ও প্রশ্নগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা এবং নির্বাচন-সংস্কারের অগ্রাধিকার নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


