বাংলাদেশের মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারে বড় পরিবর্তন আসছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) নতুন নির্দেশনা জারি করেছে, যার ফলে গ্রাহকরা অব্যবহৃত ডেটা পরবর্তী প্যাকেজে ব্যবহার করতে পারবেন। এই সুবিধা ‘ক্যারি ফরওয়ার্ড’ নামে পরিচিত, যা ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আরও সুবিধা দেবে। নতুন নির্দেশনায় বিটিআরসি ৪০টি প্যাকেজের সীমা তুলে দিয়েছে। এর মাধ্যমে অপারেটররা এখন ঘণ্টাভিত্তিক প্যাকেজও সরবরাহ করতে পারবেন। গ্রাহকরা পছন্দ অনুযায়ী ঘণ্টা, দিন বা মাস অনুযায়ী প্যাকেজ নির্বাচন করতে পারবেন। এর আগে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে বিটিআরসি একটি নির্দেশিকা জারি করেছিল, যেখানে প্যাকেজের সংখ্যা সীমিত ছিল এবং প্যাকেজের মেয়াদ ছিল ৭ দিন, ৩০ দিন অথবা আনলিমিটেড। তবে নতুন নির্দেশনায় অপারেটরদের ওপর চাপ কিছুটা কমানো হয়েছে।
নতুন নিয়মে তিন ধরনের প্যাকেজের অনুমোদন দেয়া হয়েছে:
১. নিয়মিত প্যাকেজ: সাধারণ গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত, যা বিভিন্ন মেয়াদে থাকবে।
২. গ্রাহককেন্দ্রিক বিশেষ প্যাকেজ: গ্রাহকের ব্যবহার এবং আয় অনুসারে বিশেষ ক্যাটাগরির জন্য।
৩. রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্যাকেজ: নতুন প্যাকেজের বাজার যাচাইয়ের জন্য এই প্যাকেজ দেওয়া হবে।
প্যাকেজগুলোর মেয়াদ এখন ১৫ দিন থেকে শুরু হয়ে, ৩ দিন, ৭ দিন বা অনির্দিষ্ট মেয়াদেও হতে পারে। গ্রাহকরা ঘণ্টাভিত্তিক প্যাকেজও কিনতে পারবেন, যার মাধ্যমে তারা ২০০ এমবি পর্যন্ত ডেটা পাবেন প্রতি ঘণ্টায়। এক দিনের জন্য সর্বোচ্চ ৩ জিবি, দুদিনের জন্য ৫ জিবি, এবং তিন দিনের জন্য ৮ জিবি প্যাকেজ নিতে পারবেন। এছাড়া, গ্রাহকরা যাতে তাদের সুবিধা অনুযায়ী প্যাকেজ নির্বাচন করতে পারেন, সেজন্য ‘ফ্লেক্সিবল প্ল্যান’ও রাখা হয়েছে। তবে রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কোনো ঘণ্টাভিত্তিক প্যাকেজ পাওয়া যাবে না।
নতুন নির্দেশনায় একটি বিশেষ সুবিধা যোগ করা হয়েছে: ডেটার মেয়াদ শেষ হলে অব্যবহৃত ডেটা পরবর্তী প্যাকেজে ‘ক্যারি ফরওয়ার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে, যদি গ্রাহক একই প্যাকেজ আবার কিনেন। এতে গ্রাহকদের আরও সুবিধা প্রদান করা হবে, যা ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা উন্নত করবে।


