ঢাকা, মঙ্গলবার: সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি ধারা অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ে ফের আলোচনায় এসেছে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, পঞ্চদশ সংশোধনী আংশিকভাবে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তিনি এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়। সংবিধানের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।” একইসঙ্গে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিরোধিতা করে বলেন, “সংবিধানে সংযোজিত পঞ্চদশ সংশোধনী দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল। এ রায় গণতন্ত্রের চেতনার বিপরীতে যায়।”
অন্যদিকে, রায়ের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে ব্যারিস্টার তাসনীম কবির বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা জনগণের আস্থার জায়গা ছিল। ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এটি বাতিল করা হয়েছিল, যা তখন জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করেছিল। আজকের রায় জনগণের চাওয়া পূরণে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।”
রাজনৈতিক অঙ্গনে রায়ের প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান বলেন, “এই রায় রাজনৈতিক সমঝোতার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছিল। এটি সেই বিতর্কের সমাধানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।”
তবে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা এ রায়ের সমালোচনা করে বলেছেন, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতার বিকাশ নিশ্চিত করা তাদের প্রধান লক্ষ্য। “এ রায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে,” বলেন দলটির সাধারণ সম্পাদক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হাইকোর্টের এই রায় আগামী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সম্ভাবনা থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টে নির্ভর করবে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করা হয়। এর পর থেকেই এই ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।


