দেশ গড়ার যে দ্বিতীয় সুযোগ তরুণদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে, সেটি যেন একেবারে নষ্ট না হয়, এমনটাই বলেছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তিনি শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই আহ্বান জানান।
আসিফ নজরুল বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ বুদ্ধিজীবীরা যে স্বপ্ন, আদর্শ ও দেশপ্রেমের অঙ্গীকার নিয়ে সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, তার ধারাবাহিকতা ছিল আমাদের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে। তরুণরা, ছাত্ররা, জীবন বাজি রেখে মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছে। তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের পর বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে যে স্বপ্ন দেখেছিলাম, তা একদলীয় শাসন ও রাজনৈতিক ব্যর্থতার কারণে ব্যর্থ হয়ে পড়েছিল। সেই ব্যর্থতা যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে সকলের সতর্কতা প্রয়োজন।
এ সময় তিনি দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তরুণ প্রজন্মের প্রতিশ্রুতি ও সংগ্রামের ওপর জোর দেন। “দেশ গড়ার দ্বিতীয় সুযোগ যেন হাতছাড়া না হয়, সেটি আমাদের সকলের দায়িত্ব,” বলেন তিনি।
এছাড়া, শফিকুল আলম, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা শহিদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সকাল ৭টায় রাষ্ট্রপতি প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং এরপর প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ৭টা ১৫ মিনিটে শ্রদ্ধা জানিয়ে শহিদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।
১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে, জাতির মেধাশূন্য করার চেষ্টা করেছিল। তাদের এই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রতিশোধের অংশ ছিল। ৩০ লাখ শহিদের মধ্যে বুদ্ধিজীবীদের হত্যার ঘটনা এখনও জাতির ইতিহাসে এক বিভীষিকাময় অধ্যায়।
আজকের দিনটি উপলক্ষে সারা দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলোচনা সভা, মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।


