বাংলাদেশে বিচার বিভাগের সংস্কারের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে অংশীজনদের মতামত গ্রহণের সময়সীমা ১২ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। রোববার (৮ ডিসেম্বর) বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
এতে বলা হয়, ২৩ নভেম্বর কমিশন প্রথমে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, যেখানে অংশীজনদের মতামত গ্রহণের জন্য ওয়েবসাইট চালু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় জানানো হয়েছিল যে, সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব থাকলে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে কমিশনের ইমেইলে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়। পাশাপাশি প্রস্তাবের মুদ্রিত কপি কমিশনের ঠিকানায় পাঠানোর জন্য বলা হয়েছিল। তবে, এখন অংশীজনদের মতামত দেওয়ার সময়সীমা ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
কমিশনের সচিব এ ই এম ইসমাইল হোসেনের পাঠানো নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ওয়েবসাইটে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণির জনগণের জন্য পৃথক প্রশ্নমালা প্রদান করা হয়েছে। এসব প্রশ্নমালা পূর্ণ করে অংশীজনরা তাদের মতামত জানাতে পারবেন। পাশাপাশি, নির্ধারিত প্রশ্নমালার বাইরে আরও সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব থাকলে, তা সফট কপি ইমেইলে (Bangladeshjrc@gmail.com; info@jrc.gov.bd) এবং মুদ্রিত কপি কমিশনের ঠিকানায় পাঠানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।
বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন গঠনের পর থেকে এটি বিচার বিভাগের উন্নয়ন ও সংস্কারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। গত ৩ অক্টোবর এই কমিশনটি গঠন করা হয়, এবং এর প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমান। কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন—হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এমদাদুল হক, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ফরিদ আহমেদ শিবলী, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ সাইয়েদ আমিনুল ইসলাম, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মাজদার হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানিম হোসেইন শাওন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল হক সুপন এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি।
এখন পর্যন্ত যে প্রস্তাবগুলো পাওয়া গেছে, সেগুলোর মধ্যে বিচার বিভাগের কাজকর্মের আরও স্বচ্ছতা, আইনি দক্ষতার উন্নয়ন এবং বিচারিক কার্যক্রমের গতি বাড়ানোর বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে। অংশীজনদের মতামত সংগ্রহের মাধ্যমে, এসব প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করে যথাযথ সংস্কারের দিক নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


