বাংলাদেশের বৃহৎ কোম্পানিগুলোর ব্যালেন্স শিটে টাকার পরিমাণ থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। দেশি অর্থনৈতিক সমস্যা ও সম্পদের অভাবে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ।
তিনি জানান, দেশের ব্যাংকে থাকা টাকা বাস্তবে দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে না, বরং তা বিদেশে চলে যাচ্ছে। দেশের বৈষম্য কমাতে হলে, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। তাছাড়া, ধনীদের কাছ থেকে কর আদায়ে সংস্কার প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসবে, যা দেশের উন্নতি আনবে। তবে বর্তমান সংকট ও সম্পদের অভাবের কারণে, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ধনীদের কাছ থেকে কর আদায়ে এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর মাধ্যমে বৈষম্য কমানো সম্ভব হবে।
এছাড়া, এলডিসি থেকে উত্তরণের বিষয়েও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। বাংলাদেশ ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণ করবে, তবে উন্নত দেশগুলোকে জানানো প্রয়োজন যে, দেশের সক্ষমতা এখনো পুরোপুরি বাড়েনি। তাই রপ্তানি ক্ষেত্র ও জিএসপি সুবিধা পেতে সরকারের উদ্যোগ নিতে হবে।
বৈষম্য কমাতে শিক্ষার ক্ষেত্রে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন ড. মাহমুদ। তিনি বলেন, দেশে ৮০ শতাংশ কারিগরি শিক্ষকদের অভাব রয়েছে, যা সংকট সৃষ্টি করেছে।
বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্ডারমিট এস গিল “দ্য মিডল ইনকাম ট্রাপ” শীর্ষক গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, মধ্য আয়ের দেশগুলো কম পুঁজি ও কম দক্ষতার কারণে অর্থনৈতিক মন্দার মুখে পড়ে। এসব দেশে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার কম এবং অর্থনৈতিক সৃজনশীলতা বাড়াতে আরও গবেষণার প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা একমত হয়েছেন যে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট মোকাবিলার জন্য বৃহৎ সংস্কারের প্রয়োজন। সরকারের উচিত আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং বৈষম্য দূর করার জন্য আরও পদক্ষেপ নেওয়া।


