দশ দিনের সফরে গত ৩০ নভেম্বর লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বর্তমানে তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।
বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এ সফরের মূল উদ্দেশ্য দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের কৌশল নির্ধারণ করা। বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে নির্বাচনী রোডম্যাপ চাওয়ার কৌশল, বিএনপির রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখা প্রচার এবং দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করার মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়াও, খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা এবং তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসার প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলোতেও আলাপ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিএনপির নীতি-নির্ধারকরা জানিয়েছেন, তারা চান প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসুক। তাদের মতে, ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই বিএনপির প্রধান লক্ষ্য।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, “দেশ পরিচালনায় অন্তর্বর্তী সরকারকে আমরা সহযোগিতা করছি। তবে আমরা সংস্কারের পর দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়েছি। যদি ডিসেম্বরের মধ্যে রোডম্যাপ ঘোষণা না হয়, আমরা আন্দোলনের পথে যেতে পারি।”
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল জানান, “বিএনপি চায় অন্তর্বর্তী সরকার যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুক। এজন্য প্রয়োজনীয় কাজ চলছে। তবে প্রয়োজন হলে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা থেকে সরে যায়। এরপর নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। তবে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে এখনও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলে বিএনপির অভিযোগ।
এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুসংহত করার চেষ্টা করছেন মির্জা ফখরুল। দলীয় নেতাকর্মীরা এখন তাকিয়ে আছেন এই বৈঠকের ফলাফলের দিকে।


