চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ইসকন নেতা ও বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর গ্রেফতার ও জামিন নামঞ্জুরের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ ও তার অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
এর আগে, সোমবার বিকালে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হলে তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। আদালত প্রাঙ্গণে চিন্ময়ের সমর্থকরা জড়ো হলে সেখানে কড়া নিরাপত্তা জারি করা হয়।
জানা যায়, গত ৩১ অক্টোবর বিএনপি নেতা ফিরোজ খান একটি মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জনকে আসামি করেন। অভিযোগে বলা হয়, চলতি বছরের ৫ আগস্ট নগরের নিউমার্কেট মোড় এলাকায় একটি স্তম্ভের ওপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার উত্তোলিত জাতীয় পতাকার স্থলে ইসকনের গেরুয়া ধর্মীয় পতাকা স্থাপন করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের সমর্থকরা দাবি করেছেন, এই মামলা তার নেতৃত্বাধীন সনাতনী আট দফা দাবির আন্দোলনকে বিতর্কিত করার অপপ্রয়াস। চিন্ময় দাস গ্রেফতারের আগে একটি ভিডিও বিবৃতিতে বলেন, “এই আন্দোলন সনাতনীদের অধিকার রক্ষার। এটি কোনোভাবেই রাষ্ট্রবিরোধী নয়।”
মঙ্গলবার আদালতে হাজিরের সময় তার ভক্তরা ‘চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে মুক্তি দাও’ স্লোগান দিলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। পরে আদালত থেকে বের হয়ে অনুসারীরা জড়ো হলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন।
এ ঘটনার পর হাটহাজারী ও এর আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের দাবির আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, এই গ্রেফতার ধর্মীয় সহিংসতাকে উসকে দিতে পারে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় পতাকা অবমাননার মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে কেউ আইন নিজের হাতে নিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


