রংপুরের পীরগঞ্জে করতোয়া নদী থেকে অবৈধভাবে প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক বালু উত্তোলন করছে একটি শক্তিশালী চক্র। প্রশাসনের নীরব ভূমিকার সুযোগে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় এই কার্যক্রম প্রকাশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে নদীর পাশের বসতবাড়ি, ফসলি জমি, এবং গ্রামীণ সড়কগুলো ভাঙনের মুখে পড়েছে।
নদীর ৯টি পয়েন্টে ড্রেজার ও শ্যালো মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের কার্যক্রম চলছে। এভাবে উত্তোলনকৃত বালু পীরগঞ্জসহ আশেপাশের এলাকায় নির্মাণ কাজের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। বিশেষ করে টুকুরিয়া, বড় আলমপুর, এবং চতরা ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়কগুলোতে গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়ে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করলেও সেটি স্থায়ী কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।
বালু উত্তোলনের কারণে করতোয়া নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে জীববৈচিত্র্যে প্রভাব পড়ছে। নদীর তীরবর্তী জমি ধসে পড়ার পাশাপাশি জলাধারগুলো সংকুচিত হয়ে পড়ছে। টুকুরিয়া ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা আফজাল শেখ জানান, পরিকল্পনাহীন বালু উত্তোলন করতোয়া নদী ও আশপাশের জীববৈচিত্র্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে।
অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। চতরা ইউনিয়নের কুয়াতপুর হামিদপুর এলাকার এক ইউপি সদস্য নূর মোহাম্মদ গোল্লাসহ আরও অনেকে বালু উত্তোলনে জড়িত। তাদের তত্ত্বাবধানে দিনরাত নদীর ব্লকের পাশে থেকেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাদিজা বেগম জানান, বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু অভিযান নয়, কার্যকর তদারকির মাধ্যমে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
করতোয়া নদীশাসন কার্যক্রমের আওতায় যদি অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা না যায়, তবে পরিবেশ, জনজীবন এবং স্থানীয় অর্থনীতির ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব আগামী দিনে আরও ভয়াবহ রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।


