ঢাকা, ১২ নভেম্বর – বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন, অভিযোগ করেছেন যে দলটি গণতন্ত্রের মুখোশে স্বৈরশাসনের নীতি অবলম্বন করে দেশে অস্থিরতা তৈরি করেছে। মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত নাগরিক ঐক্যের একটি সেমিনারে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। এই সেমিনারের শিরোনাম ছিল “মানবিক, গণতান্ত্রিক, কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের ঐক্যবদ্ধ হোন”। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সেমিনারে মূলত বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়।
ড. মঈন খান বলেন, আওয়ামী লীগ অতীতে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছে বটে, তবে আজ তারা গণতন্ত্রকে সঠিকভাবে পালন না করে একটি স্বৈরতান্ত্রিক অবস্থানে চলে গেছে। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের চেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দল দেশে নেই, কিন্তু তারা গণতন্ত্রের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে নিজেরাই স্বৈরাচারী শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই স্বৈরাচারী নীতির কারণে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংসের মুখে পড়েছে।”
বিএনপির এই প্রবীণ নেতা আরও বলেন, সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনের ধারায় চলতে না পারলে যে কোনো রাজনৈতিক দল জনগণের সমর্থন হারিয়ে ফেলবে, যেমনটি আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে ঘটেছে। ড. খান দাবি করেন যে, আওয়ামী লীগ জনগণের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা তাদের জনপ্রিয়তায় ধস নামিয়েছে।
গণঅভ্যুত্থানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে আলোচনা করে মঈন খান বলেন, দেশের প্রকৃত কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি গণঅভ্যুত্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে তিনি সবার কাছে আহ্বান জানান যে, এই পরিবর্তন যেন সংঘাতের মাধ্যমে না ঘটে। তিনি বলেন, “একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সংগ্রামীদের আদর্শ একে অপরের পরিপূরক। সংঘাতের রাজনীতিতে আমাদের কোনো উন্নতি হবে না।”
মঈন খান এই সময়ে রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং বলেন, বিএনপি একটি মানবিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে। তাদের উদ্দেশ্য যদি সৎ ও জনকল্যাণে হয়, তবে জনগণের সমর্থন নিশ্চিতভাবে তাদের পাশে থাকবে।


