বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে রাজধানীর কাঁচাবাজারে আবারো অস্থিরতা। উৎপাদন এলাকা থেকে পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন, সরবরাহ কমে যাওয়া এবং পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।
বাজারভেদে অধিকাংশ সবজির দাম কেজিতে ১০-৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দাম কেজিতে ২০-৩০ ও ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ১০-২০ টাকা। খুচরা বাজারে সরু ও মোটা চালের দামও কেজিতে ২ টাকা বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ভোক্তারা।
বাজারে সাধারণ মানের বেগুন গতকাল কেজিপ্রতি ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা এক সপ্তাহ আগের তুলনায় প্রায় ২০ টাকা বেশি। করলার দামও একই পরিমাণ বেড়ে ৮০-১০০ টাকায় পৌঁছেছে। ঝিঙা বিক্রি হয়েছে ৬০-৭০, কাঁকরোল ৭০-৮০, ঢেঁড়স-চিচিঙ্গা ৫০-৬০ ও কচুরলতি ৭০-৯০ টাকায়। বরবটির দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০-৯০ টাকায়। শসা বিক্রি হয়েছে ৮০-১২০ টাকায়।
মরিচের বাজারেও স্বস্তি নেই। গত সপ্তাহে ৮০-১৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচের দাম বেড়ে এখন ১৫০-২০০ টাকায় পৌঁছেছে। বিক্রেতাদের দাবি, বৃষ্টির কারণে খেত থেকে মরিচ তোলা এবং বাজারজাত করতে সমস্যা হওয়ায় সরবরাহ কমেছে।
কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, বৃষ্টি হলেই দাম বাড়ে, কিন্তু আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার পরও সে দাম আর আগের অবস্থায় ফেরে না। প্রতিদিনের বাজার করতে এসে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।
বনানী কাঁচাবাজারের এক সবজি বিক্রেতা বলেন, ‘কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে অনেক খেতের সবজি নষ্ট হয়েছে। বন্যার পানিতেও ক্ষতি হয়েছে। ফলে ঢাকায় সরবরাহ কমেছে। আবহাওয়া দ্রুত স্বাভাবিক না হলে সামনে দাম আরো বাড়তে পারে।’
নতুন বাজারে কেনাকাটা করতে আসা নাজির উদ্দিন বলেন, ‘এখন শুধু শাকসবজি নয়দ; মাছ, মাংস, চালসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দামই বাড়ছে। বিক্রেতারা বৃষ্টি, বন্যা ও সরবরাহ সংকটের কথা বলছেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের আয় তো বাড়ছে না। ফলে বাজার করা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।’
রাষ্ট্রীয় সংস্থা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের দৈনিক বাজারদর বিশ্লেষণেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। সংস্থাটির ৯ জুলাইয়ের কারওয়ান বাজারের দামের সঙ্গে গতকালের দামের তুলনায় দেশী ও আমদানি করা রসুনের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। কাঁচামরিচে বেড়েছে প্রায় ৫০ টাকা। শসার দাম ৬০-৭০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যান্য সবজির দামও ২০- ৩০ টাকা বেড়েছে।
শুধু সবজিই নয়, মাছ ও মুরগিরও বেড়েছে দাম। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৭০-১৯০ টাকায়, যা এখন বেড়ে ১৮০-২০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। দেশী মুরগির দাম ৬৫০-৭৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। তবে সোনালি ও লেয়ার মুরগির দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি। গরুর মাংস ৭৮০-৮৫০ ও খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ফার্মের ডিমের দাম অবশ্য প্রতি ডজন ১২০-১৩০ টাকার মধ্যে রয়েছে।
প্রায় সব প্রজাতির মাছের দামও বেড়েছে। বড় রুই গতকাল বিক্রি হয়েছে ৪৫০-৫৫০ টাকায়। মাঝারি রুইয়ের দাম ২০-৪০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৪০০-৪৮০ ও ছোট রুই ৩২০-৩৬০ টাকা। কাতল ৩৪০-৪৮০, তেলাপিয়া ২০০-২৬০, শিং ৪০০-৫০০, পাবদা ৩২০-৪৫০, টেংরা ৬০০-৮০০, পাঙাশ ১৮০-৩৫০, চাষের কৈ ২০০-২৮০, সিলভার কার্প ১৮০-২৪০ ও চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা গেছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য চালের দামেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজারদর অনুযায়ী, সোমবার থেকে খুচরা বাজারে সরু ও মোটা চালের দাম কেজিতে ২ টাকা বেড়েছে। গতকাল সরু চাল (নাজিরশাইল ও মিনিকেট) বিক্রি হয়েছে ৭২-৮৫ টাকা কেজি, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৭০-৮৫ টাকা। একইভাবে মোটা চালের দাম ৪৮-৬০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫০-৬০ টাকা।


