নিম্নআয়ের পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ডিলার নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা (সংশোধিত), ২০২৫ জারি করেছে সরকার। গত বছর এপ্রিলে জারি করা এই নীতিমালায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এতে ডিলার নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালায় সংশোধন করা হয়েছে। এখন থেকে প্রকৃত মুদি ব্যবসায়ীদের বাইরে কেউ ডিলারশিপের আবেদন করতে পারবেন না। এর জন্য হালনাগাদ মুদি ব্যবসায়ীর ট্রেড লাইসেন্সের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। পরিষ্কার করা হয়েছে কোনো ধরনের চাকরিজীবীর আবেদনের অযোগ্যতার বিষয়টি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, এর আগে অনুমোদিত মূল নীতিমালায় কিছু ব্যবহারিক জটিলতা ও তদারকি দুর্বলতা প্রকাশ পাওয়ায় দ্রুত এই সংশোধিত নীতিমালা জারি করা হয়েছে।
সংশোধিত নীতিমালার তিন অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো ওয়ার্ড বা ইউনিয়নে ডিলারের পদ শূন্য হলে, কিংবা কোনো ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণে কার্যক্রম স্থগিত থাকলে অথবা সময়মতো ডিলারশিপ নবায়ন না হলে জনস্বার্থে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
সেক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের অনুমোদনক্রমে পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ড বা ইউনিয়নের ডিলার দিয়ে টিসিবির পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা হবে, যাতে সাধারণ ভোক্তারা ভোগান্তিতে না পড়েন। এছাড়া ডিলাররা চাইলে একই ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডের ভেতরে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে দোকানের ঠিকানা পরিবর্তন করতে পারবেন।
ডিলার নিয়োগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এখন থেকে শুধু সাধারণ ট্রেড লাইসেন্স থাকলে চলবে না, আবেদনকারীর অবশ্যই ‘মুদি ব্যবসার হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স’ থাকতে হবে।
এছাড়া ডিলার হতে পারবেন না এমন ক্যাটাগরির পরিধি বাড়িয়ে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী এবং বেসরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি স্পষ্টভাবে ‘এমপিওভুক্ত’ শিক্ষক-কর্মচারীদেরও ডিলার হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
নতুন নীতিমালায় ডিলারদের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে জামানত ও নবায়নের ক্ষেত্রে। ডিলার হিসেবে চূড়ান্ত নির্বাচিত হওয়ার পর আগে যেখানে জামানত বাবদ ৩০ হাজার টাকা জমা দিতে হতো, সংশোধিত নীতিমালায় তা বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
বিলম্ব ফির ক্ষেত্রে আগে তিন মাস বা তার বেশি সময় পাওয়া গেলেও, নতুন নিয়মে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ‘সর্বোচ্চ এক মাস’ পর্যন্ত এক হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে নবায়নের সুযোগ থাকবে। এই এক মাসের মধ্যে নবায়ন না করলে ডিলারশিপ সরাসরি বাতিল হয়ে যাবে।
নতুন সংশোধিত নীতিমালা জারির সঙ্গে সঙ্গে ২০২৫ ও তার আগের ২০২১ সালের নীতিমালাও বাতিল হয়ে গেছে।
টিসিবির জেলা পর্যায়ের ডিলারদের কার্যক্রম তদারক করবেন জেলা প্রশাসক (ডিসি)। আর উপজেলা পর্যায়ে তদারক করবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নতুন ডিলার নিয়োগ বা পুরোনো ডিলার নবায়নের সময় জেলা প্রশাসনের তদন্তকালে এবং চুক্তির পূর্বে টিসিবি কর্মকর্তার সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট ডিলারকে অবশ্যই তার দোকানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে।
এতদিন জরুরি প্রয়োজনে সাময়িক ডিলার নিয়োগের বিষয়টি শুধু সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকার ‘ট্রাকসেল’ ডিলারদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে নতুন নীতিমালায় এর পরিধি বাড়িয়ে উপজেলা পর্যায়কেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে সারা দেশে ৮ হাজার ২৭৩ জন ডিলার রয়েছেন। এছাড়া নতুন করে বিভিন্ন জেলায় ডিলার নিয়োগ চলছে। চলতি মাসের শেষে উল্লেযোগ্য সংখ্যক ডিলারের চুক্তি বাতিল হচ্ছে।


