২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য প্রণীত একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট হিসেবে উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের বাজেট প্রণয়নের দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকার অতীতের তুলনায় ভিন্ন। দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, জনগণের চাহিদা এবং সুশাসনের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে এ বাজেট তৈরি করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, রাজস্ব নীতি এবং উন্নয়ন কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় বাজেটে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনের যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি। বর্তমান সরকার সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে জনগণকেন্দ্রিক বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধ এবং জনকল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ কারণে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে প্রয়োজনীয়তা, সম্ভাব্য সুফল এবং অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।


