ঈদুল আজহার আর মাত্র দুদিন বাকি। এরই মধ্যে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে জমে উঠতে শুরু করেছে কেনাবেচা। তবে উৎসবের আমেজের পাশাপাশি এবার হাটজুড়ে দেখা দিয়েছে ভোগান্তি, কাদা-পানি আর দামের অস্থিরতা। সোমবার বৃষ্টি হওয়ায় গাবতলী, শাহজাহানপুর, দিয়াবাড়ী ও কমলাপুরসহ বিভিন্ন হাটে হাঁটুসমান কাদা তৈরি হয়। পানি নিষ্কাশনের দুর্বল ব্যবস্থার কারণে ব্যাপারী ও ক্রেতা—দু’পক্ষই চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক ক্রেতা কাদার কারণে গরুর কাছে যেতে না পেরে দূর থেকেই দাম জিজ্ঞেস করে ফিরে যাচ্ছেন।
রাজধানীতে এবার প্রায় ২৮টি পশুর হাট বসেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার গরু ট্রাক ও পিকআপে করে ঢাকায় আসছে। গাবতলী হাটে সবচেয়ে বেশি পশুর সমাগম দেখা গেলেও বৃষ্টির কারণে অনেক বিক্রেতা বিপাকে পড়েছেন। কোথাও গরু কাদার মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে, কোথাও বিক্রেতারা খড়-বাঁশ দিয়ে শুকনো জায়গা তৈরির চেষ্টা করছেন। তবে কালশী হাটে ছাউনির ব্যবস্থা থাকায় সেখানে তুলনামূলক কম ভোগান্তি দেখা গেছে।
অন্যদিকে পশুর দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় গরুর দাম অনেক বেশি। মাঝারি গরুতেও চাওয়া হচ্ছে কয়েক লাখ টাকা। আবার বিক্রেতাদের দাবি, গোখাদ্য, পরিবহন ও শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় কম দামে গরু বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হবে।
এছাড়া নির্ধারিত হাসিলের বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে বিভিন্ন হাটে। গরু রাখার জায়গা, আনলোডিং ও নিরাপত্তার নামে আলাদা অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যাপারীরা। এদিকে বড় গরু দেখতে ভিড় থাকলেও ক্রেতারা কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন কম।
প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, মূল্যস্ফীতি ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এবার কোরবানির সংখ্যা আরও কমতে পারে। এখন হাটের সবাই শেষ দুদিনের ক্রেতার চাপের দিকেই তাকিয়ে আছেন।


