আসন্ন পবিত্র কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশের সড়কপথে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সড়ক পরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, এবারের ঈদযাত্রায় মহাসড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা কমাতে সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হবে।
সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। কোথাও বড় ধরনের যানজট তৈরি হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাসে যত্রতত্র ওঠানামা নিরুৎসাহিত করতে পরিবহণ মালিক ও শ্রমিকদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যাত্রীদেরও নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও বাসে ওঠানামা না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ সামাল দিতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বাস টার্মিনাল ও প্রবেশপথগুলোতে বিশেষ মনিটরিং চালু থাকবে। বিশেষ করে ধোলাইপাড়, গাবতলী ও আব্দুল্লাহপুর এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত তদারকির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ফেরি পারাপারের ক্ষেত্রেও নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। মন্ত্রী জানান, ফেরিতে ওঠার আগে বাস থেকে যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফেরিঘাট এলাকায় ব্যারিকেড স্থাপন ও যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে।
নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্পিডবোট বা ছোট নৌযান থেকে সরাসরি লঞ্চে ওঠা নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে নির্ধারিত টার্মিনাল ব্যবহার করে যাত্রীদের চলাচলের সুযোগ থাকবে।
এদিকে শিল্পাঞ্চলে একযোগে ছুটি শুরু হলে সড়কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে উল্লেখ করে গার্মেন্টস মালিকদের প্রতি ধাপে ধাপে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী। তার আশা, সমন্বিত এসব উদ্যোগের ফলে এবারের ঈদযাত্রা আগের তুলনায় আরও স্বস্তিদায়ক হবে।


