পিভাঞ্চলে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে এনসিসি ব্যাংক ও গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইকে)-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার পিভাঞ্চলের মানুষের টেকসই ও উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করতে এই চুক্তি স্বাক্ষর করে এনসিসি ব্যাংক। চুক্তির আওতায় ব্যাংকটি “দ্য অ্যাডাপটিভ ইকো চর প্রজেক্ট: এ ব্লুপ্রিন্ট ফর থ্রাইভিং ডাইনামিক ল্যান্ডস্কেপস” শীর্ষক প্রকল্পে অর্থায়ন করবে, যা ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ও ফুলছড়ি ইউনিয়নের পিভাঞ্চলে দুই বছর মেয়াদে বাস্তবায়িত হবে। এ প্রকল্পের কৌশলগত সহযোগী হিসেবে থাকবে কাল্টিভেরা লিমিটেড এবং গবেষণা ও মূল্যায়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করবে “ডাহুক”।
রোববার (১০ মে) ব্যাংকটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সম্প্রতি এনসিসি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শামসুল আরেফিন এবং গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী এম. আবদুস সালাম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিসি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. খোরশেদ আলম, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাকির আনাম, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ও মো. হাবিবুর রহমান, ইভিপি ও হেড অব সাসটেইনেবল অ্যান্ড উইমেন্স ব্যাংকিং নিগার মমতাজ, এসভিপি ও হেড অব সিকিউরিটি অ্যান্ড লজিস্টিকস এবং এনসিসি ব্যাংক ফাউন্ডেশনের প্রধান খন্দকার সাইফুল আলম, কাল্টিভেরা লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ এবং ডাহুকের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. মাগফি রেজা সিদ্দিক।
প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য পিবাসীকে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো এবং তাদের জন্য টেকসই জীবিকার ব্যবস্থা করা। মূল কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে: সৌরশক্তিচালিত ডিজিটাল রেজিলিয়েন্স সেন্টার স্থাপন (যা দুর্যোগের আগাম সতর্কীকরণ, ডিজিটাল সেবা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে); টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা প্রদান; নিরাপদ পানি ও সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন; জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ ও গবাদিপশু লালন-পালনের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি; নারী উদ্যোক্তা তৈরি; এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে হাজার হাজার পরিবার নিরাপদ পানি, জ্বালানি ও স্বাস্থ্যসেবা পাবে এবং ৩০০-এর বেশি পরিবার আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নারী নেতৃত্বাধীন ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতাও বাড়বে।


