বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি ২০২৫ অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য বছরে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি বেড়ে ৪৫৫ মিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও এ প্রবৃদ্ধি কোম্পানিটির কার্যকর ব্যবসায়িক কৌশল ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সক্ষমতাকে সামনে এনেছে।
পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে ৫ শতাংশ নগদ এবং ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ রয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বৃদ্ধি পেয়ে ১.১১ টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে আইপিডিসির সুদ আয় ৮.৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯,৫৬০ মিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি পরিচালন আয় বেড়ে ৩,৪৮৪ মিলিয়ন টাকা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭.৪৩ শতাংশ বেশি। বিনিয়োগ আয়েও বড় ধরনের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে—এটি ৯৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১,৩২৪ মিলিয়ন টাকা। ট্রেজারি ব্যবস্থাপনা ও পুঁজিবাজারে কৌশলগত বিনিয়োগ এ প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
অন্যদিকে, পরিচালন ব্যয় কিছুটা বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রাখা হয়েছে। ব্যয় ১০.৩৩ শতাংশ বেড়ে ১,৬৩১ মিলিয়ন টাকায় পৌঁছালেও পরিচালন মুনাফা ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ১,৮৫৩ মিলিয়ন টাকা হয়েছে।
ঋণ, লিজ ও অগ্রিমের পরিমাণ ৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ৭৪,৬২২ মিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আমানত বেড়ে ৬২,২৪৯ মিলিয়ন টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা বাজারে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। উন্নত মুনাফার ফলে রিটার্ন অন ইকুইটি বেড়ে ৬.৭৪ শতাংশ হয়েছে এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৭.৮৫ টাকা। শক্তিশালী নগদ প্রবাহ ভবিষ্যতে টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।


