প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন, সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার প্রথম দুই মাসেই দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের দুই মাসের কার্যক্রম ও ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ তুলে ধরেন। মাহদী আমিন বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যেই সরকার সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি জানান, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা ও কৃষি সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ১২ লাখ কৃষকের ক্ষুদ্র ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক খাতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণ, পে-পাল চালুর উদ্যোগ এবং শিল্পখাতে নতুন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার কাজ চলছে। পাশাপাশি ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে সংস্কারের কথা তুলে ধরে মুখপাত্র বলেন, এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা, ই-হেলথ কার্ড চালু এবং শিক্ষা খাতে ভর্তি ফি বাতিলসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ভিভিআইপি প্রটোকল সীমিত করা, সরকারি সুবিধা হ্রাস এবং ডিজিটাল সেবার বিস্তার ঘটানো হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন, চাঁদাবাজি দমন ও মানবাধিকার সুরক্ষায় জোর দেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন দাবি করেন, সরকারের এসব পদক্ষেপ দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নতুন গতি সঞ্চার করেছে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কর্মপরিকল্পনার বাকি অংশও সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে।


