ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিনে আইন প্রণয়নে ব্যস্ত সময় পার করেছে সংসদ। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে একসঙ্গে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করা হয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন খাতের নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোয় প্রভাব ফেলবে।
পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ৯টি অধ্যাদেশ হুবহু বহাল রেখে আইনে রূপ দেওয়া হয়েছে। এসব বিলের মধ্যে রয়েছে ক্রীড়া, জ্বালানি, শ্রম, স্থানীয় সরকার, আইনগত সহায়তা ও কৃষিজমি সুরক্ষাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীরা বিলগুলো সংসদে উত্থাপন করেন এবং কণ্ঠভোটে সেগুলো পাস হয়।
এছাড়া দুটি অধ্যাদেশ বাতিল করে নতুন বিল পাস করা হয়েছে, যা বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্ট। ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫’ রহিত করে দুটি পৃথক বিল পাসের মাধ্যমে বিচারক নিয়োগ ও সচিবালয় কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে বিচার বিভাগের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় নতুন দিক উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, মানবাধিকার খাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ বাতিল করে ২০০৯ সালের মূল আইন পুনরায় চালুর লক্ষ্যে নতুন বিল পাস করা হয়েছে। এর ফলে মানবাধিকার কমিশনের কার্যক্রম পূর্বের আইনি কাঠামোয় ফিরে যাবে।
সংসদের এদিনের কার্যক্রমকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন, একদিনে এতগুলো বিল পাস দেশের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করলেও এসব আইনের কার্যকর বাস্তবায়নই হবে আসল চ্যালেঞ্জ।


