জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবার সরাসরি প্রভাব ফেলেছে ভোক্তাদের দৈনন্দিন জীবনে। সরকার নির্ধারিত মূল্য বাড়ানোর পরও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত দামে এলপি গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে এলপি গ্যাস তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেনের দামে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজির একটি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করে।
তবে নতুন দাম কার্যকরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাজারে এর ব্যতিক্রম চিত্র দেখা যায়। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি হতে দেখা গেছে।
কারওয়ানবাজার এলাকায় ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার টাকায়। আফতাবনগরে একই সিলিন্ডারের দাম রাখা হচ্ছে আরও ২০০ টাকা বেশি। অন্যদিকে, মোহাম্মদপুর ও বসিলা এলাকায় বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮৫০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকায়।
অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা। কারওয়ানবাজারে গ্যাস কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, সরকার দাম নির্ধারণ করলেও বাস্তবে সেই দামে কোথাও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এতে বাড়তি আর্থিক চাপ পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।
খুচরা বিক্রেতারা অভিযোগ করছেন, ডিলারদের কাছ থেকেই বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। ফলে তারাও বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এক বিক্রেতা জানান, ডিলাররা বাড়তি দামে সিলিন্ডার দিচ্ছেন, তাই খুচরা পর্যায়ে দাম বেড়ে যাচ্ছে।
তবে ডিলাররা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, তারা সরকার নির্ধারিত দামেই সিলিন্ডার সরবরাহ করছেন এবং অতিরিক্ত দাম নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এই পরিস্থিতিতে বাজারে কার্যকর নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের মতে, কঠোর তদারকি ছাড়া এলপি গ্যাসের বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় এবং ভোক্তাদের ভোগান্তিও কমবে না।


