ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বৈঠকে বসেছে বিএনপির সংসদীয় দল। বুধবার (১১ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় সরকারি দলের সংসদীয় দলের সভাকক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম জানান, আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে। সে অধিবেশনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংসদের গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদ—স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বিষয়ে দলীয়ভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সংসদীয় দলের সদস্যরা বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে। অধিবেশনের প্রথম দিনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদে ভাষণ দেবেন।সরকারি দলের সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা বিভিন্ন অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি প্রয়াত ব্যক্তিদের স্মরণে শোক প্রস্তাবও উত্থাপন করা হবে প্রথম অধিবেশনে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। সেদিনই অনুষ্ঠিত বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়। পরে বিকেলে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
৩০০ আসনের জাতীয় সংসদের মধ্যে দুটি আসনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে এবং প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে একটি আসনের নির্বাচন বাতিল হয়েছে। বাকি ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি আসন, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি আসন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসনে জয় পেয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন সাতটি আসনে।
সংসদের প্রথম অধিবেশন ঘিরে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংসদ সচিবালয়। অধিবেশন কক্ষসহ স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সংসদ নেতা ও বিরোধী দলীয় নেতার কার্যালয় নতুন করে প্রস্তুত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় সংসদ ভবনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেগুলো সংস্কার করা হয়েছে।


