দেশের কৃষকদের জন্য একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার গড়ে তুলতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের নয়টি উপজেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে কৃষকদের তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হবে এবং সরকারি বিভিন্ন সেবা ও সহায়তা সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার (৪ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় কৃষকদের জন্য একটি আধুনিক ও সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরির প্রয়োজনীয়তা এবং কৃষি খাতে সরকারি সহায়তা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী গণমাধ্যমকে জানান, কর্মসূচির প্রাক-পাইলট পর্যায়ে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচিত এলাকাগুলোতে সব শ্রেণির কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে একটি ডিজিটাল ডাটাবেইস তৈরি করা হবে, যা ভবিষ্যতে কৃষকদের বিভিন্ন সরকারি সুবিধা প্রদান সহজ করবে।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে আট বিভাগের নয়টি উপজেলার নির্ধারিত নয়টি ব্লকে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করা হবে। নির্বাচিত উপজেলাগুলো হলো— টাঙ্গাইল সদর, বগুড়ার শিবগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, মৌলভীবাজারের জুড়ী, কুমিল্লা সদর এবং কক্সবাজারের টেকনাফ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের পরিচয় ও কৃষিজমি সংক্রান্ত তথ্য একত্রে সংরক্ষিত থাকবে। এতে করে কৃষি প্রণোদনা, ভর্তুকি, বীজ ও সার বিতরণসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা নির্দিষ্ট কৃষকের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
প্রাক-পাইলট ও পাইলট পর্যায়ের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি চালু করা হবে।
আগামী ১৪ এপ্রিল পরীক্ষামূলকভাবে এই কর্মসূচির আওতায় ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


