নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ৫ মামলায় জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই মামলাগুলোতে চারটি হত্যাকাণ্ড এবং এক মামলা সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সংবলিত। হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।
আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া চারটি হত্যামামলা হলো ফতুল্লা থানায় দায়েরকৃত বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা এবং পারভেজ হত্যা মামলা। এছাড়া সদর মডেল থানায় হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে একটি মামলা রয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট সারা হোসেন ও মোতাহার হোসেন সাজু।
গত বছরের ৯ মে ভোর রাত ৩টার দিকে আইভীকে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত চুনকা কুটির থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর বিভিন্ন মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতার দেখানো হয়। হাইকোর্টে আবেদন করলে পাঁচ মামলায় তাকে জামিন মঞ্জুর করা হয়। পরে আপিল বিভাগে এই জামিন স্থগিত হয়ে যায়। ১৮ নভেম্বর আবারও তাকে পাঁচ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
আইভীকে গ্রেফতার ও জামিন দেওয়ার বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ও সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মামলাগুলোর দ্রুত বিচার ও আইভীর অবস্থান পুরো ঘটনার স্বচ্ছতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই ঘটনা নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র ও জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত এসব হত্যাকাণ্ডের মামলার ফলে স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। হাইকোর্টের জামিনের ফলে আইভী তার আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবেন।
নির্বাচনী ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকা সাবেক মেয়র আইভীর মামলা এবং জামিন বিষয়ক আপডেট স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের নজরে রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বিশ্লেষণের সুযোগ দেবে।


