জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।
মঙ্গলবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্ধারিত সময়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জানান, যেসব সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হবে, সেসব স্থানে আগে নির্বাচন আয়োজন করা হবে। ভবিষ্যতে সিটি করপোরেশন নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে কিনা—সে সিদ্ধান্ত সংসদে নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসকেরা আমলাদের তুলনায় কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। এরপর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়। ইতোমধ্যে ঢাকার দুই সিটিসহ ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের অধিকাংশই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
এদিকে, ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, “ঢাকা দক্ষিণ থেকে সিটি নির্বাচন করব ইনশাআল্লাহ।”
ভোটের প্রস্তুতিতে পিছিয়ে নেই এনসিপিও। দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ফেসবুক পোস্টে জানান, সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত সব পর্যায়ের নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। তিনি লেখেন, “সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, ইউনিয়ন থেকে শুরু করে ওয়ার্ড; যারা প্রার্থী হতে চান, প্রস্তুতি নিন। আমরা আসছি আপনার খোঁজে…।”
এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, ঢাকা দুই সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী-এর নাম আলোচনায় রয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা বাড়তে থাকায় আগামী দিনগুলোতে মাঠের রাজনীতি আরও সরব হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।


