চট্টগ্রাম মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এক ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। তিন শতাধিক ব্যক্তিকে ‘দুষ্কৃতিকারী’ আখ্যা দিয়ে মহানগর এলাকায় প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে, যা সিএমপির ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নগরীর শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সিএমপির প্রকাশিত তালিকায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নামও রয়েছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সংখ্যাই বেশি। একই সঙ্গে বিএনপির কয়েকজন স্থানীয় নেতার নামও তালিকাভুক্ত হয়েছে। তালিকায় কারাগারে থাকা ও পলাতক—উভয় ধরনের ব্যক্তির নাম থাকায় শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮-এর ৪০, ৪১ ও ৪৩ ধারার ক্ষমতাবলে এই গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এসব ধারায় সহিংসতা প্রতিরোধ ও জননিরাপত্তার স্বার্থে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের একটি এলাকা থেকে বহিষ্কার কিংবা প্রবেশ নিষিদ্ধ করার বিধান রয়েছে। সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজের মতে, নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি এই তালিকা প্রকাশ অপরাধীদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ সৃষ্টি করবে এবং সাধারণ মানুষও তথ্য দিতে উৎসাহিত হবে।
তবে মানবাধিকারকর্মী ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন। তাদের মতে, কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী গ্রেফতার ও বিচারই হওয়া উচিত। গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করলে অপরাধীরা অন্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এদিকে পুলিশ বলছে, গ্রেফতার অভিযান বন্ধ হচ্ছে না। তালিকাভুক্তদের ধরতে নিয়মিত অভিযান চলবে এবং গণবিজ্ঞপ্তি সেই প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করবে। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এই নতুন কৌশল আদৌ কতটা ফলপ্রসূ হবে—তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়ে গেছে। চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা জোরদার করবে, নাকি নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।


