অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, পুলিশ সংস্কারে সরকার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, বাস্তবে তা পুরোপুরি অর্জন সম্ভব হয়নি। তবে এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংস্কার কার্যক্রম একেবারেই হয়নি—এমন দাবি সঠিক নয়; বরং উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন’ শীর্ষক নীতি সংলাপে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আইন উপদেষ্টা বলেন, সংস্কার নিয়ে কিছু মহলে নেতিবাচক বক্তব্য ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়ানো হয়, কারণ এতে বাড়তি মনোযোগ ও প্রচার পাওয়া যায়। বাস্তবতা হলো—যদি সংস্কারের প্রত্যাশা ১০ ধরা হয়, তাহলে অন্তত চার পর্যন্ত অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন একদিনে সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি জানান, পুলিশ সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাপক পরামর্শ গ্রহণ করা হয়েছে। এমনকি ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়নের সময় যেভাবে আলোচনা ও মতবিনিময় হয়েছিল, সেই ধারা অনুসরণ করেই সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, প্রয়োজনীয় আইনগত কাঠামো প্রণয়নের কাজ সরকার সম্পন্ন করেছে। তবে প্রকৃত অর্থে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও এর সুফল পেতে আরও পাঁচ থেকে দশ বছর সময় লাগতে পারে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকারগুলো যদি এই সংস্কার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখে, তাহলে জনগণ এর ফলাফল দেখতে পাবে।
উচ্চ আদালতের সংস্কার নিয়েও কথা বলেন আইন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বিচারক নিয়োগে রাজনৈতিক স্লোগান নয়, যোগ্যতা ও পেশাদারিত্বই হওয়া উচিত মূল বিবেচ্য, আর উচ্চ আদালতের প্রয়োজনীয় সংস্কার সেখান থেকেই বাস্তবায়িত হবে।


