বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তিনি কিছুটা সাড়া দিলেও এখনো সংকটাপন্ন পর্যায়েই আছেন। দলের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, অবস্থা স্থিতিশীল হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে লন্ডনকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে, যদিও বিকল্প দেশগুলোর কথাও দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা ভাবছেন। ভিসা, চিকিৎসাকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ ও এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের কিছু প্রস্তুতি আগেই নেওয়া হয়েছে।
গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দিলে খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে নিউমোনিয়াসহ কিছু দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতা বাড়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত মেডিকেল বোর্ড নিয়মিত তার চিকিৎসা তদারকি করছে। দেশি ও বিদেশি একাধিক বিশেষজ্ঞও ভার্চুয়ালি চিকিৎসা পরামর্শ দিচ্ছেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের মূল্যায়ন অনুযায়ী এখনই তাকে বিদেশে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত স্থিতি নেই।
খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবরে দেশজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে তার আরোগ্য কামনায় প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দেশবাসীর নিকট দোয়া চেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাধারণ মানুষের অনুকূল বার্তা ও সহমর্মিতা লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে।
এদিকে চীন সরকার খালেদা জিয়ার চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল পাঠানোর আগ্রহ জানিয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, তারা দ্রুতই ঢাকায় পৌঁছে তার শারীরিক অবস্থার হালনাগাদ মূল্যায়ন করবেন।
হাসপাতালে প্রতিদিন বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি দেখা গেলেও দলীয় নেতারা ভিড় কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। দলের স্থায়ী কমিটি ও উপদেষ্টারা নিয়মিত হাসপাতালে অবস্থান করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন খালেদা জিয়া। অতীতে বেশ কয়েকবার চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার আবেদন করা হলেও আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গত বছর তিনি মুক্ত হন এবং চলতি বছর মে মাসে দেশে ফিরে আসেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া বর্তমানে দেওয়া চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন, তবে পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নন। রোগের প্রকৃতি অনুযায়ী তার অবস্থার প্রতিটি মুহূর্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দলের নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।


