দেশের শীর্ষস্থানীয় ৪৯টি ব্র্যান্ডকে দেওয়া হলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মর্যাদা ‘সুপারব্র্যান্ডস বাংলাদেশ ২০২৫–২৬’। রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। এতে অংশ নেন দেশের কর্পোরেট অঙ্গনের শীর্ষ নির্বাহী, শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।
সুপারব্র্যান্ডস বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বাধীন ব্র্যান্ড মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান, যার যাত্রা শুরু যুক্তরাজ্যে ১৯৯৪ সালে। বর্তমানে এটি ৯০টিরও বেশি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একটি ব্র্যান্ড কেবল তখনই সুপারব্র্যান্ডস মর্যাদা পায় যখন তা নিজ খাতে সর্বোচ্চ সুনাম অর্জন করে এবং ভোক্তার আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশে ২০২৫–২৬ মেয়াদের জন্য নির্বাচিত ব্র্যান্ডগুলো বাছাই করেছেন একটি বিশেষ ব্র্যান্ড কাউন্সিল। ব্র্যান্ডের ঐতিহ্য, প্রাসঙ্গিকতা, গুণগত মান, কার্যকারিতা ও ভোক্তার মনে উপস্থিতি—এই পাঁচটি মানদণ্ডে প্রতিটি ব্র্যান্ডকে ২০ নম্বরের স্কেলে মূল্যায়ন করা হয়। সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া ব্র্যান্ডগুলোই শেষ পর্যন্ত সম্মাননা অর্জন করেছে।
অনুষ্ঠানে ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিবিউশনস কোম্পানি বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফ বিন তাজ বলেন, “বাংলাদেশে সুপারব্র্যান্ডস নির্বাচন কঠোর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়েছে। একাধিক ধাপের মূল্যায়নের মাধ্যমে কেবল সেইসব ব্র্যান্ডকেই বেছে নেওয়া হয়েছে যারা ধারাবাহিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতায় অনন্য।”
সুপারব্র্যান্ডস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, “সুপারব্র্যান্ড হলো আস্থা ও শ্রদ্ধার প্রতীক। আজ আমরা সেইসব ব্র্যান্ডকে সম্মান জানাচ্ছি, যারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে ভোক্তার মনে বিশ্বাস তৈরি করেছে এবং শিল্পে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।”
অনুষ্ঠানে ‘সুপারব্র্যান্ডস বাংলাদেশ ২০২৫–২৬’ প্রকাশনার প্রচ্ছদ উন্মোচন করা হয়। এতে স্বীকৃত প্রতিটি ব্র্যান্ডের ইতিহাস, যাত্রা ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হবে, যা বিজ্ঞাপন, বিপণন, ব্র্যান্ড ব্যবস্থাপনা ও একাডেমিক গবেষণার জন্য মূল্যবান তথ্যসূত্র হিসেবে কাজ করবে।
বিশ্বব্যাপী সুপারব্র্যান্ডস এ পর্যন্ত ৪৫,০০০-এর বেশি ব্র্যান্ডকে সম্মান জানিয়েছে এবং ৬৪৫টিরও বেশি বই প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশে এটি ষষ্ঠবারের মতো আয়োজন করা হলো, যেখানে আস্থা, গুণমান ও স্বকীয়তার প্রতীক ব্র্যান্ডগুলো আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি পেল।


